চাকরি খুঁজছেন? ইন্টারভিউ এর জন্য নিজেকে ভালো মত প্রস্তুত করুন

ইন্টারভিউ এর জন্য নিজেকে ভালো মত প্রস্তুত করুন
Share

আপনি কি জানেন কীভাবে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিতে হয়? কীভাবে আপনার প্রথম পরিচয়ের প্রভাব বা ইম্প্রেশন দীর্ঘ সময়ের জন্য স্মরণীয় করে তোলা যায়?

আনুষ্ঠানিক হোক কিংবা অনাড়ম্বর মিটিং, পেশাদারী হোক কিংবা দৈনন্দিন মিটিং, রোমান্টিক হোক কিংবা কমেডিক মিটিং, আমরা সকলেই একবাক্যে স্বীকার করতে পারি যে যেকোন সাক্ষাতে প্রথম ইম্প্রেশনের প্রভাব বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানুষের মনে স্থায়ী একটা প্রভাব ফেলে।

আমরা বলছি না যে প্রথম ইম্প্রেশন কখনও বদলাতে পারে না। বরং আমরা এটা স্বীকার করি যে আমাদের জীবনের সম্পর্ক গুলোয় প্রথম ইম্প্রেশনের প্রভাব একটা বিশাল ভূমিকা পালন করে থাকে। যেকোন ব্যক্তির সাথে প্রথম সাক্ষাতের প্রভাব সব সময়ই আমাদের মনে একটি চিরস্থায়ী প্রভাব ফেলে; এমনকি দলবদ্ধ ভাবে সাক্ষাতের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।

যখন আপনি একটি চাকরি খোঁজার চেষ্টা করেন, তখন প্রায় যেকোন চাকরির ক্ষেত্রেই ইন্টারভিউ এর সময় আপনার প্রথম ইম্প্রেশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা পালন করে। আজকাল যেকোন চাকরিতেই নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া যথেষ্ট সংবেদনশীল এবং ইন্টারভিউ এর জন্য প্রস্তুতি নেয়ার ধাপগুলো অল্প কথায় বলে বোঝানো সম্ভব নয়। কিন্তু আজ আমরা চেষ্টা করেছি ইন্টারভিউ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস এই প্রতিবেদনে তুলে ধরতে।

চাকরিটি শেষ পর্যন্ত পান কিংবা না পান, একটি ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো আপনি যে একজন পেশাদারী ব্যক্তি এবং নিজের দক্ষতা সম্পর্কে আপনার আত্মবিশ্বাস রয়েছে সেটি নিয়োগকারীর সামনে তুলে ধরা। যেকোন চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দেখা যায় যে বেশির ভাগ প্রার্থীই অন্যান্য ছোট খাটো কারণে চাকরিটি পাওয়ার সুযোগ হারান, যেমন- দেরি করা, ইন্টারভিউ এর সাপেক্ষে বেমানান পোশাক বা সাজ, বিনয়ের অভাব ইত্যাদি।

ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় ছোট ছোট প্রত্যেকটি ব্যাপারই অনেক বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তাই আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। এছাড়াও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতিতে কখনওই নিজেকে সীমাবদ্ধ করে ফেলবেন না। আপনার পেশা, ক্যারিয়ার, উন্নয়ন এবং আগামী বছরগুলোয় চূড়ান্ত ভাবে নিজেকে কোথায় দেখতে চান, সে সব বিষয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা, লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা গুলো নিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরুন।

চাকরি পাওয়ার জন্য ধাপে ধাপে ইন্টারভিউ প্রস্তুতির গাইড

ইন্টারভিউর জন্য প্রস্তুতির গাইড

ইন্টারভিউতে পৌঁছে প্রথমেই যা বলা যেতে পারে

যেকোন ইন্টারভিউতে পৌঁছে প্রথমেই যার সাথে দেখা হবে তাকে কীভাবে দ্রুত নিজের পরিচয় দেবেন সেই ব্যাপারে প্রস্তুতি নেয়া আপনার প্রথম কাজগুলোর মধ্যে একটি। রিসিপশনিস্ট হোক কিংবা কোম্পানির যেকোন পজিশনের ব্যক্তি, তাকে স্মার্ট ভাবে নিজের পরিচয় দেয়ার অভ্যাস আগে থেকেই গড়ে তোলা আবশ্যক। রিসিপশনিস্টের খোঁজ করুন, কিংবা যিনি আপনাকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন তাকে নম্রতার সাথে নাম সহ আপনার আগমনের উদ্দেশ্যটি জানান।

উদাহরণ স্বরূপ:

“হাই। আমার নাম আব্দুর রাহমান। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজারের ভূমিকায় নিয়োগের জন্য আজ বেলা ১১টায় নির্ধারিত একটি ইন্টারভিউ এর জন্য এসেছি।”

কিংবা

“হাই। আমার নাম আব্দুর রাহমান এবং আমি জনাব হারুন সিদ্দিকী সাহেবের কাছে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার পদটির জন্য ইন্টারভিউ দিতে এসেছি।”

আপনার সর্বোত্তম আচরণ করার চেষ্টা করুন; যার সাথেই কথা হোক না কেন, যথাযথ সম্মান ও ভদ্রতা বজায় রাখুন। কার সাথে দেখা করতে হবে তা যদি জেনে থাকেন, তাহলে তাদের নাম উল্লেখ করুন, নির্ধারিত সময় সম্পর্কে জানলে তাও উল্লেখ করুন। আপনার জানাশোনার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করুন এবং নিয়োগকারীদের কাছে আপনার উপস্থিতি জানান দিন। তারপর কোম্পানির পদ্ধতি অনুযায়ী তারা আপনার সাথে মিটিং এর বন্দোবস্ত করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

এইচআর কিংবা ইন্টারভিউ প্যানেলের সাথে সাক্ষাৎ হলে যা বলতে পারেন

একটি চাকরি পাওয়ার জন্য নিয়োগ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ ব্যস্ততায় ভরা ও সময় সাপেক্ষ হতে পারে, তাই এই সময়টায় নিজেকে হালকা ও নিরুদ্বেগ রাখা জরুরি। এইচআর কিংবা ইন্টারভিউয়ারের সাথে দেখা হওয়ার আগ পর্যন্ত যতক্ষণই অপেক্ষা করতে হোক না কেন, নিজেকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখার চেষ্টা করুন।

যখন এইচআর আপনাকে অভ্যর্থনা জানাতে আসবেন, তখন চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ুন এবং সমান উৎসাহে তার সাথে হাত মেলান। তার চোখে চোখ রেখে কথা বলুন, হাসিমুখে আপনার নাম বলুন এবং মিটিং -এ সাক্ষাতের জন্য আনন্দ প্রকাশ করুন। আপনি যদি একটি ইন্টারভিউ প্যানেল সমৃদ্ধ রুমে প্রবেশ করেন, তাহলে প্রথমে ভেতরে ঢোকার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করুন, হাসিমুখে নিজের পরিচয় দিন এবং সবাইকে একই সাথে অভিবাদন জানান।

উদাহরণ স্বরূপ:

“আমি টিনা আহমেদ, আপনার/আপনাদের সাথে পরিচিত হয়ে ভালো লাগলো।”

কিংবা

“হ্যালো, আমি টিনা আহমেদ। আজ আমার সাথে দেখা করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।”

নিছক সামান্য ও ছোট খাটো ভুল করা থেকে নিজেকে বিরত রাখা খুবই জরুরি, যেমন- অন্যমনস্ক হয়ে পড়া, কিংবা ইন্টারভিউ থেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলা। আপনার মোবাইল ফোনটি সাইলেন্ট অথবা বন্ধ করে রাখুন এবং ইতিবাচক চিন্তা করুন। ইন্টারভিউয়ের আগে একবার রেস্টরুম থেকে ঘুরে আসুন এবং নিজেকে চাঙ্গা করে নিন।

পরিচয় পর্বটি সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ করার চেষ্টা করুন

যেহেতু এটি একটি ইন্টারভিউ, তাই মনে রাখবেন যে এর পরেও নানা পর্যায়ে নিজের যোগ্যতার পরিচয় দেয়ার অনেক সুযোগ আপনি পাবেন। তাই প্রথম পরিচয়টা সংক্ষিপ্ত ও আন্তরিক রাখার চেষ্টা করুন। আপনাকে প্রথম যে প্রশ্নটি করা হবে তা কিছুটা খোলামেলা হবে, যেমন “আপনার ব্যাপারে আমাদের কিছু বলুন।” এই প্রশ্নের জবাবে আপনার আবেদন করা পদটির জন্য আপনার দক্ষতাগুলোকে লক্ষনীয় করে তোলার এবং পাশাপাশি আপনার ব্যক্তিত্বকে নম্রতার সাথে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করুন।

আপনার আবেদন করা পদটির সাথে আপনার দক্ষতা কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতার সমন্বয় সাধন করুন এবং কীভাবে আপনি এই পদে তাদের চাহিদা পূরণ করার জন্য উপযুক্ত তা প্রকাশ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন। খুব বেশি কথা না বলে বা বেশি সময় নষ্ট না করে আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলুন এবং আপনার ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য জানিয়ে তাদের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি করুন। দেখে নিন আমাদের আরেকটি প্রবন্ধ শিক্ষার্থীদের জন্য টিপস : কিভাবে ব্যবসায় ক্যারিয়ার গড়ে তুলবেন?

উদাহরণ স্বরূপ:

“একজন সদ্য গ্র্যাজুয়েট হিসেবে কর্ম ক্ষেত্রে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং -এর ধারা ও নিয়ম কানুন সম্পর্কে আমার গভীর জ্ঞান ও মেধার প্রতিফলন ঘটানোর মাধ্যমে এই কোম্পানির বিভিন্ন প্রোজেক্টে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ার গঠন করার স্বপ্ন দেখি…”

আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার দিকে ফোকাস করুন

আপনি যদি একজন সদ্য গ্র্যাজুয়েট হন তাহলে অবশ্যই আপনাকে আপনার যোগ্যতা ও কোয়ালিফিকেশনের দিকে বিশেষভাবে ফোকাস করতে হবে। আর যদি তা না হন তাহলে একজন ফ্রীল্যান্সার, চাকরিজীবী কিংবা যেকোন ব্যাকগ্রাউন্ডেই কাজ করার যে অভিজ্ঞতা আপনার রয়েছে সেগুলোর দিকে ফোকাস করুন। একজন প্রার্থী হিসেবে ইন্টারভিউ গ্রহণকারীদের আগ্রহ ধরে রাখার জন্য আপনার  যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিত্বের একটি উপযুক্তও সমন্বয় তাদের সামনে উপস্থাপন করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসবের মধ্যে কিছু অপেশাদারী তথ্য যেমন আপনার শখ ও কৌতুহল ইত্যাদি দিকগুলোও অন্তর্ভুক্ত।

আপনার লক্ষ্য শুধুমাত্র আপনার যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে নয়, বরং আপনার সত্ত্বা, আপনার চরিত্র,আপনার ব্যক্তিত্ব এবং একজন কর্মী হিসেবে আপনার সম্ভাবনাময় দিকগুলোর সাহায্যে নিয়োগকারীদের প্রভাবিত করা। নিজেকে উপস্থাপন করার এমন একটি সুযোগ তৈরি করতে হবে যেখানে তারা আপনাকে নিয়োগ দেয়ার জন্য অধীর হয়ে উঠবেন।

কোম্পানি কিংবা ইন্টারভিউ প্যানেলের নির্দিষ্ট মেম্বারদের প্রশংসা করতে গিয়ে কোন বাড়াবাড়ি করে ফেলবেন না যেন!

যেকোন উত্তরের বিপরীতে ফলো-আপ প্রশ্নের জন্যও প্রস্তুতি নিন

ইন্টারভিউ এর সময় আপনি নিয়োগকারীদের আপনার ব্যাপারে যেসব তথ্য দিচ্ছেন সেগুলো মনে রাখা খুবই জরুরি এবং তার থেকে যে সব ফলো-আপ প্রশ্ন তারা করতে পারেন সে ব্যাপারেও প্রস্তুতি নিতে হবে। যদি আপনি বলেন যে আপনার জন্ম হয়েছে অন্য কোন দেশে, তাহলে সেই দেশ সম্পর্কে কিছু ফলো-আপ প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে নিন। কিংবা উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি আপনার পূর্বের নিয়োগকারীর কথা উল্লেখ করেন, তাহলে আপনার আগের চাকরি ও বসদের সম্পর্কে নানা রকম প্রশ্নে কী রকম জবাব দেবেন সে ব্যাপারেও প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।

আরো গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যখন আপনি নানা রকম প্রোজেক্ট, টেকনিক্যাল দক্ষতা এবং অর্জনের সাথে আপনার সংশ্লিষ্ট থাকার কথা শেয়ার করবেন, তখন সে ব্যাপারেও নানা রকম টেকনিক্যাল প্রশ্ন আপনাকে করা হতে পারে। তাদের আগ্রহ হয় এমন যেকোন দক্ষতা বা প্রোজেক্টের ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া ও তাদের কৌতুহল মেটানোর জন্য আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

সুযোগ দেয়া হলে আপনার নিজের থেকে কিছু প্রশ্ন করুন, কিংবা সম্ভব হলে সুযোগ তৈরি করে নিন। এতে করে চাকরিটির ব্যাপারে আপনার আগ্রহ বা প্যাশনের দিকটা প্রকাশ পাবে। তবে এটা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন প্রশ্নগুলো অফিস সময়, বেতন ইত্যাদির ব্যাপারে না হয়ে চাকরি সংক্রান্ত দায়িত্ব-কর্তব্য, কোম্পানির লক্ষ্য এসব ব্যাপারে হয়।

উত্তম ব্যবহার সব সময়ই কার্যকরী ও আকাঙ্ক্ষিত

আপনার চাকরির কাজ যেমনই হোক না কেন, কিংবা ইন্টারভিউ গ্রহনকারীর যোগ্যতা ও অবস্থান যেমনই হোক না কেন, যেহেতু এখানে পদটির জন্য আবেদনকারী আপনি নিজে, তাই মনে রাখবেন যে আপনার ব্যবহার ও স্বভাব বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করতে পারে। যতই চাপ বা পরীক্ষার সম্মুখীন হন না কেন, মাথা ঠাণ্ডা রাখুন এবং সব পরিস্থিতিতে নিজের সেরা ব্যবহার ও নম্রতা বজায় রাখার চেষ্টা করুন। আত্মসম্মানের ব্যাপারে কোন রকম আপোষ করবেন না, কিন্তু পাশাপাশি আপনাকে পেশাদারী এবং উত্তম ব্যবহার বজায় রাহতে হবে।

আপনার শারীরিক ভঙ্গিমা, কথা বলার ধরণ, পোশাক আশাক ইত্যাদি সব আচরণবিধি আপনার ইন্টারভিউয়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এই জিনিসগুলোর প্রতি আগে থেকেই যত্নবান হউন। নম্র এবং পেশাদারী আচরণ আপনার ব্যাপারে একটি দীর্ঘমেয়াদী ইম্প্রেশন তৈরি করতে পারে। হাসিমুখে আপনার ইন্টারভিউটি শেষ করুন এবং এই দারুণ সুযোগটির জন্য তাদের ধন্যবাদ দিন!

উদাহরন স্বরূপ:

“আপনাদের সকলের সাথে ইন্টারভিউতে অংশ নিয়ে ভালো লাগলো। আপনাদের দিন ভালো কাটুক এবং আপনাদের মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম। এই অসাধারণ সুযোগটির জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ।”

ইন্টারভিউ এর প্রস্তুতি নেয়ার তালিকা: নিজেকে আরো ভালোভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য টিপস

১। সাধারণ কথাবার্তা ও কুশলাদি বিনিময়ের সময় শুরু থেকেই হাসি মুখে কথা বলুন।
২। আপনার নাম বলার পাশাপাশি কোথা থেকে এসেছেন সেটাও বলুন (আলাপ শুরু করার ক্ষেত্রে)।
৩। সরাসরি ইন্টারভিউ গ্রহনকারীর দিকে মুখ ফিরিয়ে বসুন।
৪। যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তাহলে মার্জিত ভাবে আপনার পরিবার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিন, সংকোচ করবেন না।
৫। আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে এমন ভাবে বলুন যেন তা অন্যদের কৌতুহলী করে তোলে।
৬। আপনার অর্জন, আগের চাকরি ইত্যাদি সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী থাকুন এবং ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করুন।
৭। পূর্বের করা আপনার প্রোজেক্ট গুলোতে যেসব দক্ষতা চর্চা করেছেন সেগুলো সুযোগ পেলে বুঝিয়ে বলুন।
৮। আপনার ক্যারিয়ারে আগের কোম্পানির সহযোগিতা ও ভূমিকা সম্পর্কে বলুন এবং অন্যান্যদের প্রশংসা করুন।
৯। জীবনের যে লক্ষ্য এবং স্বপ্নগুলো আপনার পথচলায় আত্মবিশ্বাস এবং অনুপ্রেরণা দেয় সেগুলো উল্লেখ করুন।
১০। ইন্টারভিউ এর সুযোগ দেয়ার জন্য আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন এবং হাসি মুখে বিদায় নিন।

সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ইন্টারভিউ এর টিপস: ইন্টারভিউ এর সময় যে জিনিসগুলো এড়িয়ে চলতে হবে

  • দেরি করা:

ইন্টারভিউ এর ক্ষেত্রে কোন ভাবেই দেরি করা যাবে না! বেশির ভাগ ইন্টারভিউ গ্রহনকারীই সময়ের মূল্য দেন এবং কোন পরিস্থিতিতেই দেরি করা প্রার্থীদের চালো চোখে দেখেন না।

 

  • নেতিবাচক বক্তব্য:

আপনার পূর্বের নিয়োগকারী কিংবা ইন্টারভিউ গ্রাহকের সম্পর্কে কখনই কোন রকম নেতিবাচক কথা বা মন্তব্য করবেন না!

 

  • অহংকার:

ইন্টারভিউ এর সময় কোন রকম অহংকার বা দাম্ভিকতা নিজের মধ্যে আসতে দেবেন না, এতে করে চাকরিটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি! যেকোন কিছুর জন্য আপনার প্যাশনকে নিয়ন্ত্রনে রাখুন এবং স্থির ও মার্জিত ভাবে তা প্রকাশ করুন, যাতে করে আপনাকে তারা অহংকারী মনে না করতে পারেন।

 

  • মোবাইল ফোন:

ইন্টারভিউ এর পুরোটা সময় মোবাইল ফোনের দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকুন! ইন্টারভিউ রুমে ঢোকার আগে আপনার ফোনটি সুইচ অফ অথবা সাইলেন্ট করে নিন এবং ইন্টারভিউ চলাকালীন সময়ে একেবারেই ফোনটি চেক করবেন না।

 

  • ইন্টারভিউ এর পোশাক আশাক:

ইন্টারভিউ এ যাওয়ার সময় বেমানান পোশাক বর্জন করুন! ইন্টারভিউ এর পোশাক সব সময় ফরমাল এবং পেশাদারী হওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যথোপযুক্ত পোশাকের মাধ্যমেই এর প্রতিফলন ঘটা উচিত।

 

  • বাধা দেয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন:

ইন্টারভিউয়ারের প্রশ্ন কিংবা কথার মাঝে বাধা দেয়ার চেষ্টা করবেন না! তাদের কথা শেষ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন, যাতে আপনি কখনওই তাদের কথায় বাধা দিতে না পারেন। তাদের কথার উপরে বা বাধা দিয়ে কথা বলবেন না, কেননা এটি একটি অসৌজন্য ও অবমাননার প্রতীক।

ইতিকথা

যখন আপনি একটি চাকরি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন একজন সদ্য গ্র্যাজুয়েটের জন্য ইন্টারভিউ প্রস্তুতি আর একজন অভিজ্ঞ প্রার্থীর জন্য ইন্টারভিউ প্রস্তুতির মধ্যে বলতে গেলে তেমন কোন পার্থক্য নেই। অতএব এই ইন্টারভিউয়ের টিপসগুলো উভয়ের জন্যই উপযোগী! সময়ের সেরা এবং সবচেয়ে বেশি সংখ্যক চাকরির বিজ্ঞাপন খুঁজে নিন বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যবহৃত চাকরির পোর্টাল, Bikroy.com/Jobs.

ইন্টারভিউয়ের নানা ধাপ সহ নিয়োগ দানের পদ্ধতিতে অনেক গুলো পদক্ষেপ রয়েছে। সেজন্যই আপনার ভালো সময় এবং শক্তি ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি নেয়ার পেছনে বিনিয়োগ করাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। হয়ত মাঝে মাঝে এটি দেখতে অনেক সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু এটাকে মোটেও অবহেলা করা চলবে না। সবচেয়ে সহজ সরল প্রশ্নগুলোর জন্য ও তাদের উত্তর দেয়ার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। আগেই উল্লেখ করেছি যে প্রথম ইম্প্রেশনই শেষকথা নয়, বরং এটি নিঃসন্দেহে একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবশালী ইম্প্রেশন।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে ইন্টারভিউ প্রার্থীদের উচিত বিভিন্ন রকম ইন্টারভিউ টিপস চর্চা করার মাধ্যমে নিজেদেরকে এই চ্যালেঞ্জটির জন্য প্রস্তুত করে নেয়া, নেতিবাচক কথাবার্তা ও কাজ এড়িয়ে চলা এবং নিয়োগকারী, ইন্টারভিউ গ্রহণকারী, এইচআর ইত্যাদি ব্যক্তিদের সাথে আলাপচারিতার সময় উত্তম ব্যবহার ও বিনয়ের পরিচয় দেয়া। আমাদের এই সহজ গাইডলাইনটি মেনে চললে কীভাবে নিজেকে ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়া যায় এবং ইন্টারভিউ চলাকালীন সময়ে দীর্ঘমেয়াদী ইম্প্রেশন তৈরি করা যায় সে বিষয়ে ভালোভাবে আন্দাজ করা যায়।

আপনি যাই করুন না কেন, সব সময় মনে রাখবেন যে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে, আত্মবিশ্বাসী থাকুন এবং চাকরির ইন্টারভিউতে জোরালো পারফর্মেন্স দিন!

বিক্রয় জবস এ হাজারো চাকরির বিজ্ঞাপনের মধ্যে ব্রাউজ করুন, আর আজই খুঁজে নিন দারুণ একটি চাকরির ইন্টারভিউ দেয়ার সুযোগ। আমাদের ইন্টারভিউ টিপস গুলো কাজে লাগিয়ে লুফে নিন আপনার স্বপ্নের চাকরিটি। শুভকামনা রইলো!

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments