আপনার বসতবাড়ি কিংবা কর্মক্ষেত্রে আগুন লাগলে কি করণীয়?

আগুন লাগলে কি করবেন
Share

চলতি বছরে আগুন সংক্রান্ত নানা রকম গুরুতর ও মাঝারী গুরুতর ঘটনায় পুরো দেশ জর্জরিত হয়েছে বারবার! লাগাতার ধ্বংস আর মৃত্যুর মিছিলে আমরা সকলেই কম বেশি শারীরিক ও মানসিক আঘাতের সম্মুখীন হয়েছি।

ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের মধ্যে অনেকেই নিজেদের জীবন বাঁচানোর জন্য সময় মত জায়গা থেকে সরে যেতে পারেননি, আর অনেকেই আগুনের লেলিহান শিখায় হারিয়েছেন প্রাণ। আবার অনেকে আগুনে পুড়ে মরার অসহ্য যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য বহুতল বিল্ডিং থেকে লাফ দিয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ আর নিরাপদে মাটিতে নেমে আসতে পারেননি।

এই বারংবার মর্মান্তিক অগ্নিকান্ডের ঘটনাগুলো আমাদের, অর্থাৎ গোটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য সতর্ক সংকেতের চেয়ে কম কিছু নয়। দিন কয়েকের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাগুলো আমাদের জানান দেয় যে এই বিষয়ে এখনো আমাদের সঠিক শিক্ষা হয়নি। নিজেদের ও নিজের আশেপাশের মানুষগুলোকে এরকম ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করার জন্য আমাদের উচিত নিজেদের ঘর ও কর্মক্ষেত্র উভয় প্রেক্ষাপটের জন্য সব রকম অগ্নি নিরাপত্তা সম্পর্কে জানা ও সেগুলোর প্রয়োগ ঘটানো।

এই প্রসঙ্গে পুরনো এক প্রবাদের কথা মনে পড়ে যায়, “প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম।”

এই কথাটা কতটাই না সত্য!

তাই আজ, আমাদের এই প্রতিবেদনে আমরা অগ্নিকান্ডের সাথে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক বিষয় দু’টি ভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে আলোচনা করবো:

  • প্রেক্ষাপট ১: নিজেদের বসতবাড়িতে আগুন লাগলে কী কী করতে হবে?
  • প্রেক্ষাপট ২: আপনার কর্মক্ষেত্রে আগুন লাগলে কী কী করতে হবে?

এছাড়াও উভয় পরিস্থিতিতেই কীভাবে এ ধরণের অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটা থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়, সেটা নিয়েও আমরা আলোচনা করবো।

যদি আমরা প্রতিরোধের নানা রকম পদ্ধতি সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নিতে পারি, তাহলে এ ধরণের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার হাত থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে পারবো, কিংবা অন্তত এর ভয়াবহ পরিণাম থেকে একটু হলেও রেহাই পাবো। পাশাপাশি এ ধরণের যেকোন পরিস্থিতিতে পড়লে কী কী পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি, জখম ও হতাহতের পরিমাণ কমানো যায় সে সম্পর্কে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখাটাও সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রেক্ষাপট ১: নিজেদের বসতবাড়িতে আগুন লাগলে কী কী করতে হবে?

যখনই আপনি কোথাও কোন রকম অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত লক্ষ্য করবেন, তখন সেটি পুরোপুরি লেগে যাওয়া বা ছড়িয়ে যাওয়ার আগে প্রাথমিক ভাবে আপনার করণীয় হচ্ছে তৎক্ষণাৎ একটি অগ্নিনির্বাপক বা এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করে সেটিকে নেভানোর চেষ্টা করা। যদি এক্সটিংগুইশার হাতের কাছে কিংবা বাসায় না থাকে, তাহলে ভুলেও কখনও পানি ব্যবহার করবেন না! আপনার কুকার কিংবা অন্য যেকোন ইলেকট্রনিক্স পণ্য থেকে শুরু হওয়া আগুনে পানি ঢালা হলে সচরাচর পরিস্থিতি আরো খারাপ দিকে মোড় নেয়।

বিশ্বব্যাপী অভিজ্ঞ দমকল কর্মীদের মতে একটি প্রচলিত সহজ নীতি হচ্ছে:

“যখন আগুনের পরিমাণ অল্প তখন দ্রুত স্থান ত্যাগ করুন; কিন্তু যখন ভারী কালো ধোঁয়া দেখা যায়, তখন দরজা বন্ধ করে দিন! ”

বাংলাদেশের মত সদ্য উন্নয়নশীল একটি দেশে এই পদ্ধতিটি কার্যকর হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে; সেটা সম্পূর্ণ ভাবে আপনার ভবনটির মান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই নীতিটি আমাদেরকে ভারী ও বিষাক্ত ধোঁয়াযুক্ত অগ্নিকান্ডের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানান দেয়, যা বিপদের সময় মাথায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ!

আপনার রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে কী করবেন?

আপনি যদি বাসায় থাকেন এবং রান্নার সময় বাসার রান্নাঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়, তাহলে মনে রাখবেন, আতঙ্কিত হওয়া যাবে না! নিজেকে ও নিজের আশেপাশের মানুষদের শান্ত করুন, অতঃপর নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করুন:

  • রান্নার বাসন, প্যান কিংবা কুকারের উপর ঢাকনা বা ভারী কোন বস্তু দিয়ে আগুনটি ভালোভাবে ঢেকে দিন। এতে করে আপনি এটুকু নিশ্চিত হতে পারবেন যে আগুনটি অক্সিজেনের অভাবে একটু পর নিভে যাবে।
  • আপনার কুকারটি বৈদ্যুতিক হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিন, কিংবা গ্যাসের চুলা হলে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দিন।
  • রান্নাঘরে আগুন লাগলে কোন অবস্থাতেই সেটা নেভানোর জন্য পানি ব্যবহার করা যাবে না! ভুল পদ্ধতিতে পানি ব্যবহারের ফলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে এবং আগুনের অবস্থা প্রাথমিকের চেয়ে আরো অবনতির দিকে যেতে পারে।
  • যদি আপনি নিজে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে আর কোন কিছু চিন্তা না করে আপনার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান এবং ঠান্ডা মাথায় যত দ্রুত সম্ভব ভবনটি পরিত্যাগ করুন।

আপনার বাসায় আগুনের সূত্রপাত হলে এবং আপনি কোন রুমে আটকা পড়ে গেলে কী করবেন?

  • চেক করে দেখুন আপনার দরজার হাতলটি ঠিক কতটুকু গরম হয়েছে। যদি এটি অত্যাধিক গরম এবং স্পর্শ করা সম্ভব না হয়, আর যদি দরজার অন্য পাশ থেকে ভারী বিষাক্ত ধোঁয়া আসতে থাকে, তাহলে কোনভাবেই দরজা খোলার চেষ্টা করবেন না।
  • যেকোন রকম কাপড়, চাদর কিংবা তোয়ালে ব্যবহার করে দরজার আশেপাশের ফাঁকফোকর বন্ধ করে দিন, যাতে করে ধোঁয়া আপনার রুমের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। কেননা এ ধরণের দুর্ঘটনায় সবার আগে ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
  • যদি আপনার নাগালের মধ্যে কোন ফোন থাকে, তাহলে তৎক্ষণাৎ ইমারজেন্সি নাম্বার ও আপনার পরিবার বা বন্ধুবান্ধবদের ফোন দিয়ে আপনার অবস্থান জানান।
  • বাইরে বের হওয়ার সব রকম রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে সোজা মাটিতে শুয়ে পরুন এবং রুমের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন।
  • একটি ভেজা কাপড় নাকে-মুখ চেপে ধরুন ও সেটির সাহায্যে নিঃশ্বাস নিন। এতে করে নিঃশ্বাসের সাথে বিষাক্ত ভারি ধোঁয়া আপনার ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারবে না।
  • ইমারজেন্সি সার্ভিসের লোকজন কিংবা অন্য যে কেউ আপনার খোঁজ করছে কি না তা খেয়াল করে শুনুন ও উত্তর দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
  • যদি কোন ভাবে বুঝতে পারেন যে কোন উদ্ধারকর্মী কাছাকাছি রয়েছেন, তাহলে জোরে জোরে আওয়াজ দিন ও শব্দ করে তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে দরজা, আসবাবপত্র কিংবা দেয়ালে জোরে নক করে শব্দ সৃষ্টি করুন, যাতে করে আপনাকে খুজে পাওয়া তাদের জন্য সহজ হয়।
  • দরজা বন্ধ করে রাখলেও লক করে রাখবেন না। কেননা আপনি ধোঁয়ার প্রভাবে কিংবা অক্সিজেনের অভাবে অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন, তখন যেন তারা সহজে আপনার কাছে পৌঁছুতে পারে।

বহুতলবিশিষ্ট সুউচ্চ ভবনে আগুন লাগলে কী করবেন?

যদি আপনি কোন বহুতল বিশিষ্ট উঁচু বিল্ডিং-এ অবস্থান করেন, হোক তা আপনার এপার্টমেন্ট, বা কোন হোটেল রুম ইত্যাদি, তাহলে আগুন লাগার মত ঘটনায় নিজেকে বাঁচানোর জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো অবলম্বন করার চেষ্টা করুন:

  • আগুন যদি আপনার ইউনিটে না লেগে থাক, তাহলে যে কোন কিছু করার আগে নিশ্চিত হউন আগুনটি ঠিক কোথায় লেগেছে।
  • আপনার নিকটস্থ জানালা দিয়ে বাইরে দেখুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন আগুনের উৎসটি কোথায়, বা কোথাও থেকে ভারি ধোঁয়া নির্গমন হচ্ছে কি না।
  • আপনার ইউনিটের উপরের কোন ইউনিট থেকে যদি ধোঁয়া আসতে থাকে, তাহলে দ্রুত ভবনটি ত্যাগ করুন।
  • যদি দেখতে পান যে আপনার দরজার ফাঁকফোকর দিয়ে ধোঁয়া ভেতরে ঢুকছে, তাহলে দরজার হাতলে হাত রাখা কিংবা খোলার চেষ্টা করার আগে সেটি ঠিক কতটা গরম তা সতর্কতার সাথে চেক করুন।
  • বের হয়ে আসার সময় মনে করে আপনার পেছনের সব গুলো দরজা বন্ধ করে এগিয়ে চলুন।
  • দ্রুত ভবনটি ত্যাগ করার জন্য ফায়ার এক্সিট থাকলে সেটি ব্যবহার করুন, এবং নিজে সেটি করার পাশাপাশি অন্যদেরও সেই পথ সম্পর্কে অবগত করে যান।
  • নিরাপদ স্থানে পৌঁছে যাওয়া মাত্রই দ্রুত ইমারজেন্সি সার্ভিসে খবর দিন।

বসতবাড়িতে আগুন লাগার বিপক্ষে কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন?

আপনার বসত বাড়িতে কিংবা এপার্টমেন্টে আগুন লাগা ও ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে নিচের কিছু বেসিক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অবলম্বন করতে পারেন:

  • দেখে শুনে নামকরা ও ভালো ব্র্যান্ডের ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির কাছ থেকে অনুমোদনপ্রাপ্ত ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও গ্যাসের সামগ্রী কিনে ব্যবহার করুন।
  • স্মোক ডিটেক্টর জাতীয় অ্যালার্ম সিস্টেম ব্যবহার করুন।
  • আপনার বাসায় একটি ভালো ব্র্যান্ডের ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখুন।
  • বাসায় একটি নির্দিষ্ট স্থানে নাগালের মধ্যে অতিরিক্ত এক সেট চাবি সব সময় রাখার চেষ্টা করুন।
  • আপনার জানালায় যদি গ্রিল দেয়া থাকে, তাহলে সেটার সাথে একটি খিল দেয়া সিস্টেম করে রাখুন, যাতে জরুরী অবস্থায় সেটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
  • বিভিন্ন ধরণের ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবহার করার জন্য মাত্রাতিরিক্ত মাল্টি-প্লাগ বা এক্সটেনশন কর্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
  • ব্যবহার হচ্ছে না এমন যেকোন রকম লাইট এবং যেকোন রকম ইলেকট্রনিক্স পণ্য সব সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখুন।
  • ল্যাপটপ, কম্পিউটার কিংবা ফোন ইত্যাদি পণ্য চার্জ সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও সংযোগ দিয়ে ফেলে রাখবেন না।
  • আপনার বাসার ইলেকট্রিক্যাল ও গ্যাসের সংযোগ গুলো নিয়মিত পরীক্ষা করুন, কেননা ইঁদুর বা তেলাপোকা সেগুলো নষ্ট করে রাখতে পারে।
  • রান্নাঘরের স্টোভ, কুকার বা চুলা ইত্যাদি চালু থাকা অবস্থায় কখনই বাসা থেকে বের হয়ে যাবেন না, সব সময় সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য নিজে উপস্থিত থাকুন, অথবা কাউকে কাছাকাছি থাকতে বলুন।
  • দাহ্য ও বিস্ফোরক জাতীয় সকল পণ্য যেমন তেল, কেরোসিন ইত্যাদি রান্নাঘরের চুলা ও ইলেকট্রনিক্স আউটলেট থেকে নিরাপদ দুরত্বে রাখুন।

বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেক ঘরে ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার কম বেশি থাকেই, সেটি মূল গ্যাসের উৎস হিসেবেই হোক, কিংবা বিকল্প মাধ্যম। যেকোন ক্ষেত্রেই হোক, বেশির ভাগ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত সাধারণত গ্যাস সিলিন্ডারের বেপরোয়া ও অসতর্ক ব্যবহার থেকেই হয়। নিজের, পরিবারের ও আশেপাশের মানুষদের এ ধরণের দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচাতে গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কিত আমাদের প্রতিবেদনটি পড়ে দেখতে পারেন কীভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করবেন?

প্রেক্ষাপট ২: আপনার কর্মক্ষেত্রে আগুন লাগলে কী কী করতে হবে?

বসতবাড়িতে আগুন লাগার চেয়েও কর্মক্ষেত্রে অগ্নিকান্ডের ঘটনা আরো বেশি বিধ্বংসী ও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাই বলে আমরা এটা বলছি না যে বসতবাড়ির অগ্নিকান্ড কোন অংশে কম ভয়াবহ বা কম বিপদজনক। কিন্তু এটা সত্যি যে কমার্শিয়াল স্পেসে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বসতবাড়ির তুলনায় অনেক গুনে বেশি হয়।

এসব ক্ষেত্রে যে শুধুমাত্র শত শত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয় তা না, এর সাথে পাল্লা দিয়ে শুরু হয় ক্ষয়ক্ষতির এক কঠিন দুষ্টচক্র, যেখান থেকে আর্থিক ভাবে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাটির অর্থনৈতিক ধারাই থমকে যায় না, একই সাথে থমকে পড়ে তাদের সাথে জড়িত অন্য সব ব্যবসা, কর্মচারী, তাদের পরিবার, এমনকি সামগ্রিক ভাবে গোটা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাও।

এরই সাথে যুক্ত হয় এক বিশাল মাত্রায় হতাহতের সংখ্যা। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে একসাথে অনেক গুলো মানুষ একই সাথে এক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে কিংবা অবস্থান করে, সেখানে হতাহতের ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক গুনে বেশি হতে পারে। ঠিক এই কারণেই আপনার কর্ম প্রতিষ্ঠান কিংবা যেকোন কমার্শিয়াল ভবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা তুলনামূলক ভাবে অনেক বড় একটি ধ্বংসযজ্ঞে রূপ নিতে পারে!

আরো একটি বিশেষ কারণে কর্মক্ষেত্রগুলোয় অগ্নিকান্ড বিপদজনক হয়ে ওঠে, আর সেটি হচ্ছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এবং কোম্পানিগুলো এধরণের দুর্ঘটনার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত থাকে না। হয় তারা সঠিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন না, নয়ত তাদের কর্মচারীদের ট্রেনিং-এ গুরুতর রকম ঘাটতি থাকে। অথচ এ ধরণের পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেদের ও আশেপাশের মানুষদের রক্ষা করতে হবে সেসব বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান ও নিয়ম কানুন সম্পর্কে তাদের ট্রেনিং থাকা টা খুবই প্রয়োজন।

আবারো বলছি : প্রতিকারের চেয়ে সব সময়ই প্রতিরোধ উত্তম!

প্রত্যেক ব্যক্তি, প্রত্যেক পরিবার, প্রত্যেকটি এলাকা, প্রত্যেকটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, প্রত্যেক শহর এবং সর্বোপরি প্রত্যেকটি সরকারি সেক্টরেরই মনে রাখা উচিত যে – প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম!

প্রতিরোধ শুধুমাত্র উত্তমই নয় – এটি তুলনামূলক ভাবে বেশি নিরাপদ… দ্রুততর… এবং অর্থনৈতিকভাবেও বেশি কার্যকরী!

অতএব, প্রত্যেকটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান কিংবা কোম্পানিরই উচিত আগুন লাগার মত বড় যেকোন রকম দুর্ঘটনার জন্য আগে থেকেই সচেতন হওয়া এবং যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া। এর মধ্যে কয়েকটি নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • ঝুঁকির মাত্রার উপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন জরুরী অবস্থার জন্য অ্যাকশন প্ল্যান বা কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করা, যেমন- অগ্নিকান্ড, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, বিদ্যুৎ সংযোগে গোলযোগ ইত্যাদি।
  • আগুন লাগা ও অন্যান্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অ্যাকশন প্ল্যানগুলো নিয়ে শিডিউল তৈরি করা এবং নিয়মিত সেগুলোর পর্যালোচনা করে দেখা।
  • সর্বাধুনিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অডিটের প্রত্যেকটি ফাঁক ফোকরের দিকে খেয়াল রাখা ও সেগুলো চর্চা করা।
  • সকল কর্মচারীদেরকেই সবগুলো নিরাপত্তা পরিকল্পনা, পদ্ধতি, সরঞ্জাম এবং বের হওয়ার পথ বা এক্সিট সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
  • নির্দিষ্ট কিছু লোককে কর্মচারীদের ছোট ছোট দলকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ট্রেনিং দিতে হবে।
  • নির্দিষ্ট সময় পর পর অনুশীলনমূলক ফায়ার ড্রিলের আয়োজন করার মাধ্যমে অ্যালার্ম, সরঞ্জাম, বের হওয়ার রাস্তা এবং অন্যান্য পদ্ধতিগুলো নিরীক্ষণ করতে হবে।

আপনি হয়ত জেনে অবাক হবেন যে, যত ছোটই হোক কিংবা বড়, প্রায় প্রত্যেকটি কর্মক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও অ্যাকশন প্ল্যান থাকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে প্রায় কেউই সেগুলোর সম্পর্কে ভালো ভাবে ধারণাই রাখেন না!

কর্মচারীদেরও উচিত গুরুত্ব সহকারে উদ্যোগ নিয়ে এই জিনিসগুলো শিখে নেয়া, আর নিয়োগকারীদের দায়িত্ব হচ্ছে এ সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা এবং পদ্ধতিগুলো স্টাফদের ট্রেনিং-এর মাধ্যমে শিখিয়ে দেয়া।

তাহলে চলুন এবার দেখে নিই কর্মক্ষেত্রে অগ্নিকান্ডের সময় পালনীয় ৩ ধাপের বেসিক কার্যপদ্ধতিগুলো:

ধাপ ১ – অ্যালার্ম… অ্যালার্ম… এবং অ্যালার্ম!!!

আপনি যদি বাংলাদেশের মত একটি দেশে থাকেন, কিংবা ইউএসএ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রেই থাকেন না কেন, ফায়ার অ্যালার্মের প্রয়োজনীয়তা সব জায়গায়ই অনেক আন্ডাররেটেড বা হালকা করে দেখা হয়!

একটি কর্মক্ষেত্র, কিংবা কমার্শিয়াল স্পেসের প্রত্যেকটি মানুষেরই জানা থাকা উচিত কীভাবে জরুরী অবস্থার সময় ফায়ার অ্যালার্ম চালু করতে হয়। ঘটনা যতই ছোট বা বড় হোক না কেন, সব ইমারজেন্সিতেই একটি অ্যালার্ম ব্যবহার করা উচিত। এতে করে এটা নিশ্চিত করা যায় যে ফারার সার্ভিস অর্থাৎ দমকল বাহিনীর কাছে যত দ্রুত সম্ভব খবর পৌঁছানো যাবে এবং তারা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌছানোর জন্য তৎক্ষণাৎ রওনা হতে পারবেন।

একটি অ্যালার্ম  ব্যবহার করার মাধ্যমে সহজ ভাবে ঐ স্পেসের সব গুলো মানুষকে জানিয়ে দেয়া যায় যে একটি জরুরী অবস্থা শুরু হয়েছে, আর তাই যেন তারা নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন। এখানে সবার মধ্যে বিপদসংকেত তৈরি করার আংশিক সুবিধা হচ্ছে একটি জরুরী ফোন নাম্বার ব্যবহার করে তাদের সঠিক অবস্থান এবং দুর্ঘটনার যথাসম্ভব তথ্য সহ উপযুক্ত ইমারজেন্সি সার্ভিস দাতা কোম্পানির, যেমন- ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকর্মীদের কাছে তৎক্ষণাৎ পৌঁছে দেয়া।

ছোটখাটো অগ্নিকান্ডের ক্ষেত্রে উপযুক্ত সরঞ্জাম, যেমন – ফায়ার এক্সটিংগুইশারের সাহায্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যাটির নিজেরাই সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। তবে, এই কাজটি যদি সঠিক ভাবে সম্পন্ন করা না যায়, তাহলে কখনও কখনও সমস্যাটি আরো গুরুতর ও ক্ষতিকর আকার ধারণ করতে পারে।

অতএব, এধরণের জরুরী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ট্রেনিংপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট লোক হাতের কাছে রাখা উচিত, যারা তাদের ট্রেনিং অনুযায়ী এধরণের পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন। এছাড়াও তারা অন্যান্যদের পূর্বনির্ধারিত অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী ভবন ত্যাগ করার জরুরী পথ দিয়ে গাইড করে বের করে দিতে পারবেন এবং আপনার কর্মক্ষেত্রের সবগুলো অংশ দ্রুত আয়ত্ত্বে নিয়ে আসতে পারবেন।

ধাপ ২ – আপনার কর্মক্ষেত্রটি দ্রুত খালি করে ফেলুন

অনেক কর্মচারীরাই তাদের যার যার কর্মক্ষেত্র খালি করা বা ভবন ত্যাগ করার জরুরী পথ পরিকল্পনার বিষয়টাকে ততটা গুরুত্ব দেননা। কর্মচারীরা বিপদের সময় এত বেশি শান্ত থাকা উচিত নয়, যে ভবন ত্যাগ করার ব্যাপার নিয়ে হেলাফেলা করবেন। আবার ঠিক ততটুকুই শান্ত থাকা উচিত যাতে খুব বেশি আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে পড়েন। ভবন ত্যাগ করার পুরো ব্যাপারটা যতটা শান্তভাবে এবং ঝটপট সেরে ফেলা যায় তত উত্তম।

ভবন ত্যাগ করার সময় আপনার আশেপাশের পরিবেশ পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদজনক জিনিস নিরাপদ নিশ্চিত করে নেয়া উচিত, যেমন- মেশিন ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন করে দেয়া, দরজা ও জানালা বন্ধ করে দেয়া, কিন্তু সেগুলো লক না করা, দুর্গম ও দূরবর্তী জায়গা থেকে অন্যান্যদের উদ্ধার করা ইত্যাদি।

যত যাই হোক, এরকম পরিস্থিতিতে আপনার সব ব্যক্তিগত সামগ্রী খুঁজে খুঁজে সবকিছু সাথে নেয়ার চেষ্টা করবেন না। কেননা এতে করে আপনার সব কলীগদের সাথে নিয়ে নিরাপদে ভবন থেকে বের হয়ে আসাটা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও এসব সময়ে লিফট ভুলেও ব্যবহার করা যাবে না, সব সময় সিঁড়ি ব্যবহার করাই নিরাপদ। যদি আপনি কাউকে আতঙ্কে কাবু হয়ে যেতে দেখেন, তাহলে তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু তার আগে নিজেকে শান্ত করে নেয়াটা বেশি জরুরী।

ধাপ ৩ – নির্ধারিত নিরাপদ  স্থানে অবস্থান নিন

প্রত্যেকটি কর্মক্ষেত্রে একটি নিবেদিত বিশেষ নিরাপদ স্থান থাকা উচিত, যেখানে জরুরী অবস্থায় করমচারীরা অবস্থান নিতে পারেন, এবং কোম্পানিতে কর্মরত সকলেরই সেই স্থান ও যাওয়ার পথ সম্পর্কে অবগত থাকা উচিত। সতর্ক সংকেত বা অ্যালার্ম তৈরি করা এবং ভবন ত্যাগ করার পর সকল কর্মচারীদের উচিত একটি নিবেদিত ও নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে একত্রিত হয়ে অবস্থান নেয়া।

এই নিরাপদ স্থানটি আপনার কর্মক্ষেত্রের ভবনটির থেকে নিরাপদ দুরত্বে হওয়া উচিত, এবং এটি এমন একটি জায়গায় হওয়া উচিত, যেখানে ইমারজেন্সি সার্ভিসের লোকেরা সহজে তাদের গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন, যেমন- মেডিক্যাল বা অন্যান্য জরুরী সার্ভিস। একবার সকলে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে যাওয়ার পর, আমরা পরামর্শ দিবো বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট থেকে তাদের সকল স্টাফদের সংখ্যা হিসেব করে দেখা, যাতে কেউ বাদ পড়ে গেলে তা সময় থাকতেই সনাক্ত করা যায়। এই উপায়ে ইমারজেন্সি দমকল কর্মীরা সম্ভাব্য ঠিক কতজনকে উদ্ধার করার প্রয়োজন হবে সে ব্যাপারে একটা আন্দাজ করে নিতে পারেন।

আশা করি যেন আপনাদের কখনও পরবর্তী ধাপের সম্মুখীন না হতে হয়… ধাপ ৪ – অগ্নিকান্ডের সময় আপনার কর্মস্থলে আটকা পড়ে যাওয়া

যদি আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রের ভবনটি ত্যাগ করতে ব্যর্থ হন, কিংবা আপনার কলীগদের সাথে জরুরী পথ ধরে নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছাতে না পারার মত দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতিতে পড়েন, তারপরও আপনাকে শান্ত থাকতে হবে।,

এখন আপনি যদি নিচের দিকে কোন ফ্লোরে, যেমন দ্বিতীয় বা তৃতীয় তলায় থাকেন, তাহলে আপনি কোন একটি জানালা খুলে, নিজেকে কিছুটা নিচু করে নিয়ে, অতঃপর বেসিক ভারসাম্যকে কাজে লাগিয়ে বাইরের মাটিতে লাফিয়ে নেমে পড়োতে পারেন। কিন্তু কখনওই সোজা জানালা থেকে ছুটে এসে লাফ দেবেন না, কেননা এক্ষেত্রে খারাপ ভাবে পড়ে ফেলে আপনার হাত কিংবা পা ভেঙ্গে যাওয়া বা অন্য কোন বড় আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে।

আর যদি আপনি আরো কিছুটা উঁচুতে, যেমন চতুর্থ বা পঞ্চম তলায় থাকেন এবং জানালা দিয়েই নেমে আসা আপনার একমাত্র অপশন হয়, তাহলে চেষ্টা করুন কোন কিছু বেয়ে কিছুটা নিচের দিকের ফ্লোরে নেমে, তারপর লাফ দেয়ার আগে নিচে নরম কিছু বস্তু ছুঁড়ে দিন, যাতে করে আঘাত লাগলেও সেটা কিছুটা কম হয়।

এর থেকেও উঁচুতে যদি আপনি থেকে থাকেন, তাহলে চেষ্টা করুন জানালার কাছাকাছি কোথাও অবস্থান নিতে, এবং জরুরী সার্ভিসের লোকরা আপনাকে উদ্ধার করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। উদ্ধার হওয়ার অপেক্ষা করার সময় আপনার রুমের দরজা বন্ধ করে সব গুলো ফাঁক ফোকর কাপড় বা এই ধরণের জিনিস দিয়ে বন্ধ করে দিন, যাতে করে রুমের মধ্যে ধোঁয়া জমতে না পারে।

যদি আপনার কাপড় বা শরীরের কোন অংশে আগুন লেগে যায়, তাহলে ছুটোছুটি করবেন না, কেননা এতে করে আগুনের শিখা আরো বেশি প্রখর ভাবে বেড়ে যায়। থামুন, শুয়ে পড়ুন এবং গড়াগড়ি দিন!

এর মানে হচ্ছে, আপনার উচিত ছুটোছুটি ও নড়াচড়া বন্ধ করে দেয়া, তারপর ফ্লোর বা মাটিতে শুয়ে পড়া, এবং তারপর মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে আগুনের শিখা নিভিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।

শেষ কথা

আগুন কোন ছোটখাটো সমস্যা নয়, বরং অনেক বিপদজনক ও ভয়াবহ একটি ব্যাপার!

ঢাকা শহর ও দেশের অন্যান্য অংশে অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া সর্বশেষ ঘটনাগুলো থেকে আমরা এটাই বুঝতে পেরেছি যে নিজেদের বাসা এবং কর্মক্ষেত্রে এই ধরণের পরিস্থিতিতে পড়লে আমাদের যে রকম প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা থাকা উচিত, সেরকম কোন প্রস্তুতিই আমাদের কারো মধ্যে নেই।

কেউই তাদের সামান্য কোন জিনিস পর্যন্ত হারাতে চান না, সেখানে আগুনে পুড়ে জীবন হারানোর তো প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু এরকম কিছু আমাদের সাথে হবে না, এরকম ধারনা বা আশা করে বসে থাকার বদলে আমাদের উচিত নিজেদেরকে এ ধরণের কঠিন পরিস্থিতি ও বিপদ মোকাবিলা করার নানা রকম উপায় ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা ও নিজেদেরকে যেকোন অবস্থার জন্য প্রস্তুত করে রাখা।

আশা করি আমাদের এই প্রতিবেদনটি আপনাদেরকে জরুরী অবস্থার ট্রেনিং, নিরাপত্তা পদ্ধতি সম্পর্কে জানা এবং নিজ নিজ বসতবাড়ি ও কর্মক্ষেত্রকে অগ্নিকান্ডের মত ভয়াবহ দুর্ঘটনা মোকাবিলা করার মত করে গড়ে তোলা।

Bikroy.com -এ ব্রাউজ করে আজই আপনারা নিজেদের ঘর ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জাম, যেমন- ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর, মাস্ক, ফায়ার এক্সটিংগুইশার ইত্যাদি খুঁজে নিতে পারেন সহজেই।

আগুনের ভয়াবহতা এবং ক্ষতিকর প্রভাবকে কখনওই ছোট করে দেখবেন না। আর শুধুমাত্র নিজেই নয়, নিজের পরিবার, বন্ধুবান্ধদ এবং কলীগদের সকলে মিলে অগ্নিকান্ডের বিপক্ষে নিজেদেরকে রক্ষা করার বিভিন্ন পদ্ধতি ও নিরাপত্তামূলক নানা রকম জ্ঞানের চর্চা করে সবাইকে প্রস্তুত করে নিন।

নিরাপদ থাকুন এবং প্রস্তুত থাকুন! ভাগ্য আপনাদের সহায় হোক!

Pujan Kumar Editor
SEO Specialist , Bikroy.com
follow me
সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments

About Pujan Kumar

It's Pujan Kumar Saha, a Digital Marketing Expert from Bangladesh. I am passionate about Search Engine Optimization (SEO), Social Media Marketing (SMM) and other sectors of Digital Marketing. I also have experience in Programmatic Ad Operations sector.