অ্যাপল ২০১৮: নতুন iPhone XS রিভিউ!

Share

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অ্যাপল প্রতি বছর অবিরাম ভাবে নতুন প্রযুক্তির ডিভাইস বাজারে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলেছে। সামগ্রিক ভাবে এটি এখন সব স্মার্টফোন উৎপাদক কোম্পানির জন্যই একটি রীতি বা প্রচলন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য কিছু পরিবর্তন নিয়ে হলেও প্রায় সকল স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানির অবিরাম নিত্য নতুন ফোন রিলিজ করার প্রবণতা যেন কোন দিন শেষ হবার নয়!

গত বছর অ্যাপল এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আইফোন ডিজাইনের জগতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে তাদের এনিভার্সারি এডিশন স্মার্টফোন আইফোন এক্স। এই বছর তারই উত্তরসূরির সাথে আমাদের পরিচয় হয়েছে, অ্যাপলের আইফোন এক্সএস। সব সময়ের মত নামেই এর পরিচয় পাওয়া যায়, এটি অ্যাপলের প্রচলিত এস ভার্সন যা দেখতে হুবহু আগের ফোনটির মতই হয়ে থাকে, কিন্তু তারপরও বিশ্বব্যাপী গ্রাহকদের মনে হাহাকার সৃষ্টি করে প্রতিবার।

একদিকে এখন বর্তমান আইফোন এক্স স্মার্টফোনের অধিকারীরা একটি আপগ্রেড করার জন্য যুতসই কারণ খুঁজে বেড়াবেন, এর সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে হিসাব নিকাশ করতে চাইবেন। অপরদিকে পুরনো মডেল ব্যবহারকারীরা দ্বিধায় ভুগবেন যে এ বছরের মডেল কেনা ঠিক হবে নাকি আগের বছরেরটা। আইফোন এক্স থেকে এক্সএস এ আপগ্রেড করাটা বলতে গেলে খুবই সামান্য একটি আপগ্রেড, যা কিনা সাধারণ ব্যবহারকারীদের চোখে ধরা পড়বে না বললেই চলে! এখন এই কথাটা শুনতে অনেকের কাছে কিছুটা কঠোর মনে হতে পারে, কিন্তু কথাটা সত্যি নাকি মিথ্যে তা আপনার বিবেচনার জন্য ছেড়ে দিচ্ছি।

এখন যেহেতু এটি তেমন বড় মাপের কোন আপগ্রেড নয়, তাই অ্যাপলও এই ডিভাইসের স্পেসিফিকেশন ও ফিচারের চেয়ে বিভিন্ন রকম দিক থেকে কর্মদক্ষতা কিভাবে বাড়ানো যায় সেই  ব্যাপারে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। এর স্পেসিফিকেশনের তালিকা ঠিক আইফোন এক্স এর মতই একই ধাঁচের। সেজন্য অ্যাপল অন্যকিছু নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে তাদের নতুন ডিভাইসের কর্মক্ষমতা ও বিভিন্ন রকম ফাংশনের দিকে মনোযোগ দিয়ে বুদ্ধিমানের কাজ করেছে। একটি রঙ…বাজারের সবচেয়ে সেরা ডিসপ্লে…সাথে সামান্য কিছু বাড়তি সংযোগ…চলুন দেখে নিই কি আছে অ্যাপলের নতুন আইফোন এক্সএস ২০১৮ এ!

২০১৭ সালে অ্যাপলের আইফোন এক্স এর উন্মোচন ছিলো সত্যিকার অর্থে এক উন্মাদনার বিষয়বস্তু! সারা বিশ্বের মানুষ অ্যাপল আইফোনের সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইন এবং উদ্ভাবনী স্টাইলকে আপন করে নেয়ার জন্য উৎসুক ছিলেন। কিন্তু এই বছর এই রকম কোন হাইপই তৈরি হয় নি!

অকল্পনীয় কিছু পাওয়ার কোটাটা গত বছরই পূর্ণ হয়ে গেছে এবং সেজন্য এবছর আর আশা করার তেমন কিছুই নেই। এইবারের মডেলটি দেখতে হুবহু আইফোন এক্সের মত, এর সাথে কিছু বিশেষ আপগ্রেড। এতে রয়েছে একটি বড় ৫১২জিবি স্টোরেজ, স্পিড ও ক্যামেরা পারফর্মেন্স বাড়ানোর জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন এ১২ বায়োনিক চিপসেট, এবং একটি উন্নততর ডিসপ্লে। এখন অ্যাপল আইফোন এক্সএস ফোন কেনার জন্য প্রি-অর্ডার নেয়া হচ্ছে এবং সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮ তারিখ থেকে মার্কেটপ্লেসগুলোতে পাওয়া যাবে।

চলুন কথা বলি এক্সএস এর মধ্যে পরিবর্তনের অভাব সম্পর্কে!

যেমনটা আমরা আগেই জানি, প্রকৃতপক্ষে ডিজাইনের পরিবর্তন বলতে তেমন কিছু আলাপ করার নেই। অ্যাপল তার রীতি অনুযায়ী আগের বছরে রিলিজ করা পণ্যের মত একই ডিজাইনে একটি নতুন এস এডিশন ফোন পরবর্তী বছরে রিলিজ করে। অতএব, আইফোন এক্সএস এর ডিজাইনে কোন বাহ্যিক পরিবর্তন নেই এবং দু’টো ভার্সন পাশাপাশি একসাথে রাখা হলেও এদেরকে আলাদা করে চেনা প্রায় অসম্ভব।

অল্প সংখ্যক লক্ষণীয় ডিজাইনের পরিবর্তনের মধ্যে বডির নতুন রঙ অন্যতম। আইফোনের মিক্সের ভেতর একটি সোনালি শেড যোগ করার পর এর এক অভূতপূর্ব নতুন লুক এসেছে। এসব ব্যাতিরেকে ফোনটির ফ্রেম এবং আকৃতি আগের মতই এবং স্ক্রিনের উপরের দিকে খাঁজকাটা আকৃতির জনপ্রিয় ডিজাইনটি আবারো ফিরে এসেছে, যার সাথে নেই কোন হোম বাটন, ঠিক যেন আইফোন এক্স এর মতই।

সামনে ও পেছনে বিতর্কিত কাঁচের তৈরি বডি আবারো ফিরে এসেছে। অতএব এখনও সর্বশেষ আইফোন মডেলটি সামান্য আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়ে গেছে। যদিও বাজারে মসৃণ ও উন্নত ডিজাইনের অনেক স্মার্টফোনই রয়েছে, তারপরও অ্যাপল নজর কাড়া ডিজাইনের দিক দিয়ে সবার চেয়ে সেরা অবস্থান ঠিকই ধরে রেখেছে। অন্যান্য নকলবাজ ডিজাইনের ফোন হয়ত একই রকম সুন্দর দেখতে হয়, কিন্তু আইফোনের স্পর্শানুভূতি এবং প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটির সাথে কোন কিছুই সমতুল্য হতে পারে না।

আইফোনের উচ্চমূল্যের প্রতি আক্ষেপ ফোনটি হাতে নেয়া মাত্রই কেটে যাবে, কেননা এর অনুভূতিটাই অন্যরকম। বর্তমান বাজারের যেকোন ব্যান্ডের ফোন এর বিল্ড কোয়ালিটি আর মসৃণ ডিজাইনের কাছে হেরে যাবে। বাজারের সবচেয়ে নজরকাড়া স্মার্টফোনেটি এবং হ্যাঁ, এতে নেই কোন প্রচলিত হেডফোন জ্যাক, কেননা অনেক আগেই আইফোন এই জ্যাক বর্জন করেছে। এক্সএস এর বাম ও ডান দিক ঠিক আগের মডেলগুলোর মতই তাদের ট্রেডমার্ক স্টাইলে ভলিউম এবং লক বাটন ও সাইলেন্সার রয়েছে।

এক্সএস এর পেছন দিকটা একদম আইফোন এক্স এর মত দেখতে, এরই সাথে রয়েছে খুব সুন্দর একটি উল্লম্ব ডুয়াল ক্যামেরা। অ্যাপলের ভাষ্যমতে এর কাঁচের ব্যাক বডি অনেক বেশি টেকসই এবং এর স্পর্শানুভূতি তো অসাধারণ তা আগেই বলেছি। এবারের এক্সএস এ গোল্ডেন রঙের বডি যুক্ত হওয়াতে এর বাহ্যিক রূপ সত্যিই অপরূপ এবং স্পষ্টতই এ বছরে কেনার মত একটি স্মার্টফোন বলা চলে একে।

তাহলে আসুন দেখে নিই কেন ব্যবহারকারীরা ২০১৮ সালে অ্যাপলের নতুন আইফোন এক্সএস কিনতে আগ্রহী হতে বাধ্য!

Iphone review in Bangla

সত্যিই, কী অসাধারণ একটি স্ক্রিন!

নতুন আইফোন এক্সএস এ রয়েছে একটি ৫.৮ ইঞ্চি ওএলইডি স্ক্রিন, যার দ্বারা এটি ২০১৮ সালে অ্যাপলের সবচেয়ে ছোট মাপের নতুন ডিভাইস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ছে। এটি আজকের বাজারের যেকোন স্মার্টফনে থাকা অন্যতম সেরা আকর্ষণীয় ডিসপ্লে গুলোর মধ্যে একটি, যাতে রয়েছে উজ্জ্বল সমৃদ্ধ রঙের মেলা, গাঢ় কালো রঙ এবং শক্তিশালী কনট্রাস্ট রেশিও। এর আকৃতিটি হাতের জন্য একেবারে পারফেক্ট, কেননা এর ডিসপ্লে অন্যান্য আইফোনের তুলনায় বেশ বড় কিন্তু ফোনটি অন্যান্য ফোনের মত অস্বস্তিকর রকম বড় আকারের নয়।

চিত্তাকর্ষক ও আরো উন্নত সাউন্ড

নতুন আইফোনের ডুয়াল স্পিকারটিও আগের মত একই অবস্থানে রয়েছে, ফোনের ঠিক নিচের দিকে। যদিও তারা তাদের সাউন্ড ডিভাইসের নিচের দিক থেকে বের করে থাকে, তবুও এর আরো উন্নত সাউন্ড ও উচ্চ ভলিউমের কারণে হেডফোন ছাড়াই যেকোন ধরণের মিডিয়া প্লে করে অনেক বেশি উপভোগ করতে পারবেন।তাদের উন্নত অডিও আউটপুটের প্রযুক্তির মানে হচ্ছে আপনি এতে যে সাউন্ড শুনতে পাবেন তা আরো স্পষ্ট ও প্রগতিশীল।

এর ক্যামেরা কিভাবে শ্যুট করে

এর নতুন ক্যামেরা আপডেট আইফোনকে ছবির সূক্ষ্ম সব ডিটেইল ধারণ করতে সহায়তা করে, আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে এর ডুয়াল ক্যামেরাগুলো সত্যিই অসাধারণ, যা কিনা আগে শুধুমাত্র প্লাস এডিশনে সীমাবদ্ধ ছিলো। এবারের আইফোনের ক্যামেরা ছবিকে বুঝে এবং প্রতিটি দৃশ্যের ঊপর আলাদা ভাবে কাজ করে সামগ্রিক ফটো কোয়ালিটি অনেক গুনে বাড়িয়ে দেয়। এতে ধারণকৃত ছবিগুলো সত্যিই অসাধারণ হয়ে থাকে, যেমনটা অ্যাপল তাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গর্বের সাথে প্রদর্শন করেছে।

নতুন আইফোনটি টিকবে কত দিন?

সব সময়ের মতই অ্যাপল তাদের ডিভাইসের ব্যাটারীর সংক্রান্ত সংখ্যা সম্পর্কে তেমন কিছু বলে নি বা উল্লেখও করে নি, বরং এর পারফর্ম করার ক্ষমতার উপর বেশি মনোযোগ দিয়েছে। গত বছরের আইফোন এক্স একটি ২৭০০ এমএএইচ এর উপরে ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাটারি ব্যবহার করে চলেছে। ২০১৮ সালের আইফোন এক্সএস এর দাবী যে এই সেট গুলো আগের মডেল গুলোর তুলনায় অন্তত ৩০ মিনিট বেশি ব্যাটারি ব্যাক আপ দিতে সক্ষম, কেননা এতে রয়েছে নতুন এবং আরো উন্নত দীর্ঘস্থায়ী এ১২ বায়োনিক চিপসেট।

নতুন অ্যাপল আইওএস এর সাথে এবার আর নেই কোন পারফর্মেন্সের সমস্যা

আইফোন এক্সএস ব্যবহার করাটা একটা দারুণ অভিজ্ঞতা ছিলো নিঃসন্দেহে! অ্যাপ গুলো স্টার্ট আর শাট ডাউন হচ্ছিলো তৎক্ষণাৎ, ক্যামেরায় শ্যুট হচ্ছিলো দ্রুত এবং ফোনের স্ক্রিনে শুধুমাত্র স্ক্রলিং করাটাও ছিলো এক জাদুকরী অভিজ্ঞতার মতন। নতুন এ১২ বায়োনিক চিপসেটের সাথে নতুন আইফোনের স্পিডও ছিলো অভাবনীয়। এটি চিপসেট বর্তমান বাজারে সকল নতুন আইফোনের ভেতরে শক্তি জুগিয়ে চলেছে। এর প্রসেসরে রয়েছে আটটি কোর বিশিষ্ট ‘নেক্সট জেনারেশনে নিউরাল ইঞ্জিন’, যা একে প্রতি সেকেন্ডে ৫ ট্রিলিওন অপারেশন একনাগাড়ে চালাতে সাহায্য করে।

নির্ণয়ের সময় এসেছে : সাফল্য নাকি বাড়াবাড়ি?

সময়ের সাথে সাথে অ্যাপলের আগের দিনের উন্মোচন গুলির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, ‘এস’ সিরিজের ফোন রিলিজ হবার বছরগুলো প্রতিবারই এক রকম নিরামিষ ভাবে কাটে। সব সময়ের মত অ্যাপলের ব্যবসায়িক দিক থেকে ফলাফল ভালোই ছিল, কিন্তু গ্রাহকরা প্রতিবারই একটা দ্বিধার মধ্যে পড়ে যান যে এমন একটি ডিভাইস কেনা উচিত হবে কিনা যার একই জিনিসের মধ্যে সামান্য কিছু উন্নত স্পেসিফিকেশন রয়েছে মাত্র, বলতে গেলে হুবহু একই ডিভাইস বলে মনে হয়, তাই দ্বিধা বেড়ে যায় বহু গুনে।

এই ডিভাইসে আসা কিছু কিছু উন্নত আপগ্রেড সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। এর স্টোরেজ ক্ষমতা, ভলিউম, সেরা স্ক্রিনের উজ্জ্বল রঙের মেলা, এ সব কিছুই অ্যাপল আইফোন এক্সএস এর হাইলাইট হয়ে থাকবে। কিন্তু এগুলো কি আপনার আপগ্রেড করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট?

গত বছরের মডেলটি এই বছর কিছুটা কম দামে পাওয়া যাবে, কিন্তু নতুন করে কেনার ক্ষেত্রে এই প্রশ্নটা আপনি কিছুতেই অবহেলা করতে পারবেন না, তা হলো কোনটি কিনবেন? আইফোন এক্সএস, এক্সআর নাকি ম্যাক্স?

একবার আপনার নতুন আইফোনটি হাতে পাওয়ার পর যে তাৎক্ষণিক একটা এড্রেনালিন রাশ বয়ে যাবে আপনার ভেতর দিয়ে তা আজীবন মনে রাখার মত। এটাই অ্যাপলের নতুন আইফোন এক্সএস এর জাদুকরী প্রভাব। কিন্তু আপনাকে সময়ের সাথে এই ডিভাইসের প্রাথমিক সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য একটি কেস বা কভার ব্যবহার করতে হবে অবশ্যই। আমি নিজে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমার নতুন আইফোন এক্সএস হাতে পাওয়া ও ব্যবহার করার জন্য অপেক্ষায় রয়েছি। আশা করি আজকের এই বিস্তারিত রিভিউ পড়ে অ্যাপল স্টোরে গিয়ে আপনার পরবর্তী আইফোন কেনার ব্যাপারে আপনার মনে যে শঙ্কার পাহাড় গড়ে উঠেছে তা কিছুটা হলেও কমে যাবে এবং আপনার সিদ্ধান্ত নিতে আর কষ্ট হবে না।

আমি আশা রাখি যে এই রিভিউটি পড়ার পর আপনি অ্যাপলের নতুন আইফোন এক্সএস এর ব্যাপারে আরো বেশি কিছু জানতে পেরেছেন। এতক্ষণে নতুন অ্যাপল উন্মাদনায় আপগ্রেড করার ব্যাপারে আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা যথেষ্ট সহজ হয়ে যাওয়ার কথা। অ্যাপলের নতুন আইফোনের বিষয়ে আপনার চিন্তা ভাবনা ও মতামত  নিচের কমেন্ট সেকশনে জানাতে ভুলবেন না।

Bikroy.com এর মার্কেটপ্লেসে আজই ভিসিট করুন এবং খুঁজে নিন নতুন এবং ব্যবহৃত ফোনের হাজার হাজার বিজ্ঞাপনের তালিকা। আপনার নির্দিষ্ট চাহিদা, দামের রেঞ্জ, ব্র্যান্ড, মডেল ইত্যাদি তথ্য ব্যবহার করে আরো ভালো ভাবে সার্চ করে দেখুন আর নিজে থেকেই বুঝে নিন আপনার জন্য কোন ফোনটি সবচেয়ে সেরা।

সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

Comments

comments