যানবাহন

অনলাইনে গাড়ি বা মোটরবাইকের যন্ত্রাংশ কেনার সময় যে ৬টি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে

আজকের দিনে একজন বাংলাদেশি গ্রাহক অনলাইনে গাড়ি বা মোটরবাইকের যন্ত্রাংশ কিনছে এতে তেমন আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।প্রযুক্তির কল্যাণে আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ইন্টারনেট  ব্যবহারের সুবিধা ভোগ করছেন। ফলস্বরূপ গাড়ি বা বাইক চালিয়ে দোকানে পৌঁছে গাড়ির যন্ত্রাংশ কেনা কমে গেছে বহুলাংশে, বরং অনেকেই নিজের মুঠোফোনের মাধ্যমে অর্ডার করে ঘরে বসেই পেয়ে যাচ্ছেন তার মোটরসাইকেলের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ।

অনলাইনে কেনাকাটা দেশীয় গ্রাহকদের জন্য খুলে দিয়েছে এক অপার সম্ভাবনার দরজা।ঘরে বসেই আপনি দূর দূরান্তের কোনও ডিস্ট্রিবিউটর এর কাছ থেকে অনলাইন অর্ডার করার মাধ্যমে পেয়ে যেতে পারেন আপনার গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় কোন পার্টস। এসব ক্ষেত্রে ডেলিভারি পেতেও খুব একটা সমস্যায় পরতে হয়না, কারণ ডিস্ট্রিবিউটরদের বেশিরভাগেরই নিজেস্ব পার্সেল ব্যবস্থা থাকে। 

তথাপি আপনি যখন অনলাইনে গাড়ি বা মোটরবাইকের পার্টস কিনছেন, তখন আপনি একজন অপরিচিত মানুষের বা প্রতিষ্ঠানের উপরে ভরসা রাখছেন। আজকের লেখায় আমরা অনলাইনে গাড়ির পার্টস কেনার কিছু ভালো এবং মন্দ দিক নিয়ে আলোচনা করব। কিছুটা জানাশোনা এবং ব্যক্তিগত রিসার্চ আপনাকে বাংলাদেশের সেরা অটো পার্টস অব্দি পৌঁছতে সাহায্য করবে।  

অনলাইনে মোটরসাইকেল বা গাড়ির পার্টস কেনার আগে পর্যাপ্ত রিসার্চ করে নিন 

যদি আপনি অনলাইনে আপনার গাড়ি বা মোটরসাইকেলের জন্য যন্ত্রাংশ কিনবেন বলে মনস্থির করেই থাকেন, সেক্ষেত্রে কিছুটা সময় ব্যয় করে রিসার্চ করে নিতে পারেন। যেই পার্টসটি খুঁজছেন, ইন্টারনেটে সার্ফিং করার মাধ্যমে সেটির ব্যপারে বিস্তারিত জেনে নিন। 

অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট অথবা ই-শপে গিয়ে পণ্য সম্পর্কীয় যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করুন। পাশাপাশি সেই পার্টস এর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবপেজে গিয়ে তাদের অনুমোদিত ডিলারের ব্যাপারেও জেনে নেওয়া যেতে পারে। 

আরেকটু ভিন্ন আঙ্গিকেও রিসার্চ করা যেতে পারে। আপনি যাদের মাধ্যমে আপনার গাড়ি বা মোটরসাইকেলটি কিনেছেন তাদের সাথে বিস্তারিত কথা বলুন। পাশাপাশি বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে অটো পার্টস সম্পর্কিত গ্রুপ রয়েছে, এগুলোতে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বাকি সবার সাথে আপনার পার্টস সংক্রান্ত সমস্যাটি শেয়ার করে দেখতে পারেন। 

আপনার গাড়ি কিংবা মোটরবাইক পার্টসের তথ্যাদি ভালো ভাবে যাচাই করে দেখুন

কেনাকাটা মানেই সঠিক মূল্যে সঠিক পণ্যটি ঘরে নিয়ে আসা নয়, এর পাশাপাশি পণ্যের রিটার্ন পলিসি এবং ওয়ারেন্টি সম্পর্কেও নিশ্চিত হয়ে নিন। পণ্য হাতে পাওয়ার পর কোন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন যাতে না হতে হয় এজন্যই রিটার্ন পলিসি গুরুত্বপূর্ণ। 

এছাড়াও আপনি ভুল কোন পণ্য কিনে ফেললেও রিটার্ন পলিসি আপনাকে পণ্যটি ফেরত বা বদলিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারবে। এছাড়া পণ্য বদলের সময় পরিবহনের খরচ কে বহন করবে তা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়াই ভালো। 

অনলাইনে কেনাকাটার সময় পণ্যের গায়ে উল্লেখ করা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা এবং শর্তাদি পরে নিন। হয়ত আপনি আপনার পছন্দের দামেই পার্টসটি কিনছেন কিন্তু দেখা গেলো তার সাথে রিটার্ন পলিসি নেই, এক্ষেত্রে আগে থেকেই সব কিছু জেনে রাখা ভালো। এতে করে পরবর্তীতে কোনোরকম অসুবিধা হলে ঝামেলা কম পোহাতে হবে।

পার্টসের রিফান্ড এবং রিটার্ন পলিসি সম্পর্কে জানুন

ইন্টারনেটের মাধ্যমে কেনাকাটা করার একটা সূক্ষ্ম দিক হল পণ্যের রিটার্ন পলিসি সম্পর্কে জানা। যদি সেটি না থাকে তাহলে ভুল পণ্য হাতে পেলে আপনার কিছুই করার থাকবে না। তবে পণ্যের মোড়কে বা গায়ের লেখা পড়ার মাধ্যমেই রিটার্ন পলিসি সম্পর্কে জানা যেতে পারে।

এর পাশাপাশি যে মাধ্যমে আপনি কেনাকাটা করছেন তারা কি আপনার পণ্য ফ্রি পৌঁছে দেবে? ত্রুটিগত সমস্যা হলে ঠিক কতদিন লাগবে পণ্য সারিয়ে ফেরত পাঠাতে? রিফান্ড এর টাকা কিভাবে পরিশোধ করা হবে?  এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আশাব্যঞ্জক হলে নিঃসন্দেহে কিনে ফেলতে পারেন আপনার গাড়ি বা মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ। 

নিরাপদ একটি মার্কেটপ্লেস থেকে কিনুন আপনার গাড়ির যন্ত্রাংশ

বাংলাদেশে আপনি বেশ কিছু জায়গা থেকেই আপনার গাড়ি বা বাইকের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে পারবেন।কিন্তু এদের মধ্যে কাকে আপনি বিশ্বাস করবেন সেটাই মূলকথা। যেসমস্ত পরিবেশক তাদের ওয়েবসাইট অথবা ডিলারদের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন তারাই মূলত এগিয়ে থাকবে এই তালিকায়। 

এছাড়াও কিস্তিতে পার্টস বা অন্যান্য সেফটি সরঞ্জাম কিনতে চাইলে আপনার পরিবেশকের সাথে সরসরি কথা বলুন। কিস্তির সময় এবং পরিমাণ শুরুতেই নিশ্চিত হয়ে নিন। 

পাশাপাশি এমন কোন জনপ্রিয় এবং বিশ্বাসযোগ্য মার্কেটপ্লেস থেকে ঘুরে আসতে পারেন যারা পার্টস ডিলারদের সাথে যোগাযোগের যাবতীয় তথ্য গ্রাহকদের জন্য অবমুক্ত অবস্থায় রেখেছে। 

গাড়ির যন্ত্রাংশের মধ্যে পার্থক্যগুলো জেনে নিন

গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় পার্টস এবং যন্ত্রপাতির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। মোটাদাগে ভাগ করলে পার্টসগুলোকে চার ভাগে ভাগ করা যায়। যথাক্রমেঃ জেনুইন বা অরিজিনাল পার্টস, ওইএম(অরিজিনাল ইক্যুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার বা পরিবেশক), আফটার মার্কেট, এবং ইউজড বা ব্যবহৃত। সুতরাং আপনার গাড়ির জন্য আপনি কি ধরণের পার্টস ব্যবহার করতে চান তা আগে থেকেই আপনার জেনে রাখা উচিত। 

  • জেনুইন বা অরিজিনাল পার্টস- গাড়ি কেনার সময়ে যেসমস্ত পার্টস আপনার গাড়িতে ব্যবহার করা হয়েছিল। 
  • ওইএম(অরিজিনাল ইক্যুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার)- ওইএম এর পূর্ণরূপ থেকে সহজেই আঁচ করা যেতে পারে যে এই পার্টসগুলো আপনার গাড়ির কোম্পানি সেই মডেলের জন্যেই তৈরি করেছে। ওইএম পার্টস জেনুইন পার্টস এর মতই এবং কিছু কম দামে পাওয়া সম্ভব।  
  • আফটার মার্কেট- এই পার্টসগুলো সাধারণত বিভিন্ন আলাদা কোম্পানির তৈরি একই মডেলের জন্য ব্যবহারযোগ্য পার্টস। আফটার মার্কেট পার্টসও আপনার খরচ বাঁচাতে সাহায্য করবে।  
  • ব্যবহৃত- নাম শুনেই আন্দাজ করা যেতে পারে এই জাতীয় পার্টস কেমন। সাধারণত কোনও গাড়ি অব্যবহৃত অবস্থায় থাকলে বা ভাঙ্গা হলে এগুলো বাজারে বিক্রয় করা হয়ে থাকে। ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ যেমন আপনার খরচ বাঁচাবে তেমনি এগুলো কেনার আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো। 

অনলাইনে গাড়ির যন্ত্রাংশ কেনার আগে সেগুলোর পার্থক্য জেনে নেওয়া আপনাকে সঠিক দামে সঠিক পণ্যটি খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। 

গাড়ির পার্টসের কেনার আগে চাই ভালো জানাশোনা
গাড়ির পার্টসের কেনার আগে চাই ভালো জানাশোনা

অনলাইন প্রতারণা থেকে সাবধান থাকুন 

অনলাইন জগতের বিশাল এবং বিস্মৃত পরিসরে অনেকেই নানা ভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। নামমাত্র মূল্যে গাড়ির পার্টস কিংবা ৫ বছরের গ্যারান্টিযুক্ত বাইক এক্সেসরিজ এসব চকচকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্ক্যামাররা অনেক গ্রাহককেই ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে থাকেন। 

তবে ছোটখাটো কিছু পূর্ব প্রস্তুতির মাধ্যমে সহজেই অনলাইন স্ক্যামগুলো এড়িয়ে যাওয়া যায়। সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে সাবধান থাকতে হবে। যেমন, আপনি যার কাছ থেকে কেনাকাটা করবেন তারা কি অন্যদের চেয়ে অনেক কম মূল্য রাখছে? অথবা পরিবেশকের কি নিজস্ব কোন ওয়েবসাইট নেই? অথবা একি পণ্যের দাম অন্য দোকানগুলোর চেয়ে অনেক আলাদা? সমস্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি হ্যাঁ হয়ে থাকে, তাহলে আপনি বড় কোনও প্রতারণার শিকার হতে পারেন। 

পরবর্তীতে আক্ষেপ করার চেয়ে শুরুতেই সতর্ক থাকা ভালো।মনে রাখবেন ভালো পণ্যের দামও কিছুটা বেশি। তবে পর্যাপ্ত  রিসার্চের পর আপনার বাজেটের মধ্যে কোন পার্টস পেয়ে গেলে তা কিনে ফেলতে পারেন।

শেষ কথা

আপনি কি নিয়মিত বাইক বা গাড়ি ব্যবহার করেন? কিংবা নিছকই প্রয়োজনে? দুই ক্ষেত্রেই অনলাইনে পার্টস কেনা আপনার জন্য সময় সাশ্রয়ী হবে। 

আপনি যদি ভেবে থাকেন গাড়ির কোন যন্ত্রাংশ কেনাকাটা আপনার মাসিক বরাদ্দকৃত বাজেটের উপর বড় প্রভাব ফেলবে সেক্ষেত্রে আপনি বিক্রয়.কম এর মত কোনও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন। যেখানে অনেক অনলাইন শপ ভিজিট করার মাধ্যমে আপনার পছন্দসই বাজেটে আপনার গাড়ি বা বাইকের জন্য প্রয়োজনীয় পার্টস ক্রয় করতে পারবেন। 

যেই পরিবেশকের কাছ থেকে পণ্য কিনছেন তাদের কাছ থেকে পণ্যটি ইন্সটল করিয়ে নিতে পারেন অথবা আপনার লোকেশন দূরে হলে তারা কোন এক্সপার্ট পাঠিয়ে আপনার পার্টসটি ইন্সটল করে দিবে কিনা সে সম্পর্কে শুরুতেই জেনে নিন।  

হ্যাপী শপিং! 

Facebook Comments
সাবস্ক্রাইব করুন

No spam guarantee.

আরও দেখুন

অনুরূপ লেখা গুলো

Back to top button
Close
Close