ঢাকার জনপ্রিয় আবাসিক এলাকাসমূহ

বাংলাদেশের রাজধানী এবং দেশের সর্ববৃহৎ শহর ঢাকায় প্রায় ১৮ মিলিয়ন লোকের বসবাস। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরটিকে মসজিদের শহর বলা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোর অন্যতম হিসেবে এর পরিচিতি রয়েছে। পৃথিবীর বৃহত্তম শহরগুলোর মধ্যেও এটি অন্যতম বর্ধিষ্ণু শহর।

ঢাকার আকর্ষণ

ঢাকা শহরের উন্নতি ও দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতির কারণে আন্তর্জাতিক হোটেল চেইনসমূহ এখানে পাঁচতারা হোটেল নির্মাণ করেছে এবং বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত এমন কতিপয় হোটেলের কার্যক্রমও শহরের বিভিন্ন স্থানে চালু রয়েছে। পারিবারিক বিনোদনের জন্য অ্যামিউজমেন্ট পার্ক রয়েছে আর কেনাকাটা করতে চাইলে আপনি এখানে বিশ্বের বৃহত্তম শপিংমলগুলোর বেশ কয়েকটিকে পাবেন।

বিদেশি সংস্থাসমূহ এবং বিনিয়োগকারীরা ঢাকা শহরের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। যার ফলে, এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি বৃহৎ মহানগর অঞ্চল হিসেবে দ্রুতই বেড়ে উঠছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চাকুরির খোঁজে ঢাকামুখি লোকজনের সাথে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে আগত বিশেষজ্ঞ লোকজনের সংখ্যা যুক্ত হয়ে এখানে একটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে।

প্রচুর সংখ্যক মানুষ এখানকার জনপ্রিয় আবাসিক এলাকগুলোতে বাড়ি বা এপার্টমেন্টের খোঁজ করে চলেছেন। ঢাকার আশেপাশের কিছু এলাকায় ব্যয়বহুল আবাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তবে সেখানে উপযুক্ত ভাড়ায় পরিবারসহ বসবাস করার মত বাড়ি বা এপার্টমেন্টও রয়েছে।

ধানমন্ডি

ঢাকা শহরের নিকটবর্তী তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকাগুলোর একটি হলো ধানমন্ডি। এটি সেই ১৯৫০ সাল থেকে একই হারে বর্ধিত হয়ে চলেছে। দ্বিতল বাড়িঘর নিয়ে প্রথম এটি আবাসিক এলাকা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। যাহোক, ধানমন্ডি আগের চেয়ে বেশি বাণিজ্যিক এলাকা হয়ে ওঠায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে প্রচুর রিয়েল এস্টেট ডেভলপমেন্ট হয়েছে।

ঢাকাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর বলা হয় এবং ধানমন্ডি এলাকাতেও বহুসংখ্যক স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এখানকার বেশিরভাগ আবাসন ব্যবস্থাই হলো বহু এপার্টমেন্ট বিশিষ্ট বড় বড় ভবন। এখানে অবশ্য শপিং সেন্টার এবং অসংখ্য রেস্তঁরাও রয়েছে।

আপনি যদি ঢাকার সবচেয়ে ব্যয়বহুল কোনো আবাসিক এলাকায় থাকতে চান, তাহলে আপনি বিক্রয় তালিকায় নতুন আসা বিলাসবহুল এপার্টমেন্ট কিংবা বাড়ির খোঁজ করে দেখতে পারেন। সংলগ্ন বাথসহ দুইটি অথবা তিনটি বেডরুম, সুপরিসর লিভিং রুম নিয়ে হাতের কাছে নাগরিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে এমন স্থানে অবস্থিত বিক্রয়যোগ্য প্রচুর বিলাসবহুল এপার্টমেন্ট এবং বাড়ি রয়েছে।

গুলশান ও কুটনীতিক পাড়া

গুলশান হলো ঢাকার এমন একটি স্থান যেখানে বিদেশী দূতাবাস এবং বেশ কিছু ক্লাব অবস্থিত। গুলশান এলাকা প্রথমে একটি মডেল কমিউনিটি হিসেবে গড়ে উঠেছিল এবং সময়ের সাথে সাথে তা বিস্তৃত হয়ে আজকের এই আবাসিক এবং বাণিজ্যিক স্থাপনাসমূহের মিশেল হিসেবে গড়ে উঠেছে। গুলশান এলাকায় অভিজাত বুটিকশপ, মার্কেট এবং বাজার রয়েছে। এখানে ২৫টিরও বেশি মসজিদ এবং বেশকিছু গীর্জা ও মিশন রয়েছে।

বিদেশি দূতাবাস বেশি থাকায় এটি বাংলাদেশে অবস্থানের জন্য, বিশেষ করে খৃষ্টান এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের বিশিষ্টজনদের কাছে, আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচিত। গুলশানের উপশহর এলাকার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বিলাসবহুল বাড়ি এবং এপার্টমেন্টগুলো সেইসব বাড়ির মালিকদের জন্য উত্তম স্থান যারা সুপরিসর বাসস্থান এবং বিনোদন ভালোবাসেন। বিলাসবহুল বাড়ির অনেকগুলোই এমনসব প্লটে অবস্থিত যে, তা থেকে পাহাড় অথবা সমুদ্রের দৃশ্যপটের আবহ পাওয়া যায়।

উত্তরার উচ্চ মধ্যবিত্ত আবাসিক এলাকা

ঢাকার শহরতলী এলাকার একটি হলো উত্তরা, যেটি সেইসব লোকজনের জন্য মডেল টাউন এবং আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল, যারা শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে কিছুটা দূরে থাকতে চান। ঢাকা মহানগর এলাকায় চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই শহরতলীটি স্কুল, কলেজ, বিভিন্ন বিপনীবিতান এবং শপিংমলের জায়গা হয়ে উঠেছে। সারি সারি বৃহৎ সব মার্কেট কমপ্লেক্সসহ এই এলাকাটি প্রকৃতপক্ষে উচ্চ মধ্যবিত্তের আবাসস্থল।

বারিধারা

গুলশানের নিকটে গুলশান-বারিধারা লেক বরাবর অবস্থিত বারিধারা এলাকাটি উচ্চমানের আবাসিক এলাকা। আবাসিক বাড়ি বা এপার্টমেন্টগুলোতে সাধারণত ৩ বা ৪ টি বেডরুম, একটি বড় লিভিংস্পেস থাকে যা পরিবারসহ বসবাসের জন্য চমৎকার। এখানে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অব ঢাকা অবস্থিত, যেটা যুক্তরাস্ট্রের যে কোনো কলেজ প্রিপারেটরি স্কুলের সমকক্ষ এবং এখানে স্থানীয় ছাত্রছাত্রীদেরকেও ভর্তি করানো হয়। ছাত্রছাত্রীদেরকে সম্পূর্ণ ইংরেজিতে পাঠদান করা হয়।

পরিবারসহ বসবাসের উত্তম জায়গা হলো লালমাটিয়া

ঢাকার আদি আবাসিক এলাকাগুলোর একটি হলো লালমাটিয়া এবং এর আঁকাবাঁকা সরু পথ এবং লাল ইঁটের দালানগুলোর জন্য এটি সুপরিচিত। এলাকাটিতে পুরাতন বাড়িঘর উঠে যাচ্ছে। অনেক পুরাতন বাড়ির জায়গায় বহুতলবিশিষ্ট নতুন দালান গড়ে উঠছে। এই এলাকার অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর লাল রংয়ের মাটি এবং এ কারণেই এলাকাটির নাম হয়েছে লালমাটিয়া।

সুনিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে লালমাটিয়া ঢাকার সবচেয়ে নিরাপদ এলাকাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। এখানকার পরিবেশ শান্ত এবং কিছুটা ঢিলেঢালা। যার ফলে, শিশু রয়েছে এমন পরিবারগুলোর জন্য এটি খুবই চমৎকার একটি জায়গা। এখানে শিশুদের জন্য বেশ কয়েকটি খেলার মাঠ রয়েছে, যা ঢাকা শহরের অন্যত্র সাধারণত দেখা যায় না। এলাকাতে অবস্থিত অনেকগুলো স্কুলের কারণেও লালমাটিয়া সুপরিচিত। শহরের বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুইটি এখানে অবস্থিত। একটি হলো লালমাটিয়া মহিলা কলেজ এবং অন্যটি লালমাটিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়।

মিরপুর ও ঢাকার দর্শনীয় স্থানসমূহ

শেরে বাংলা নগর ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ঢাকা চিড়িয়াখানা এবং জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানসহ ঢাকার প্রধান আকর্ষণীয় স্থানগুলোর অনেক কয়েকটি মিরপুরেই অবস্থিত। মিরপুরে আরও রয়েছে ঢাকা কমার্স কলেজ, মিলিটারি ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি এবং এস.ও.এস. হারম্যান মেইনার কলেজ। কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের থাকার জন্য এপার্টমেন্ট খোঁজার পক্ষে এটি একটি ভাল জায়গা। এই এলাকার কিছু অংশকে সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

ঢাকায় দেশান্তরিত সম্প্রদায়

অন্য দেশ হতে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে আগত প্রবাসী/দেশান্তরিত লোকজনের জন্য বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের নিয়ে প্রবাসীবান্ধব এলাকা গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রবাসীদেরকে আন্তরিক উষ্ণতায় গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ঢাকায় প্রবাসী লোকজনকে সাধারণত উত্তরাঞ্চলের বনানী, বারিধারা এবং গুলশানে বেশি দেখা যায়, কারণ প্রবাসীদের বেশিরভাগ ক্লাব এসব এলাকায় অবস্থিত। ঢাকায় প্রবাসী কারো সাথে আপনার নতুন পরিচয় হলে আপনার সঙ্গে আলাপ আলোচনায় তারা যে কোনো ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে আপত্তি করবে না, বরং অনেক বেশি খুশি হবে। আন্তর্জাতিক পাড়ার বাসিন্দারা নিয়মিতভাবে সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করেন এবং অনেক দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করেন।

Comments

comments