নতুন এবং আরও উন্নত iPhone

স্মার্টফোনের বাজারে অ্যাপল তার নিয়মিত উদ্ভাবনের জন্য সুপরিচিত। আই ফোনের প্রতিটি সংস্করণে অ্যাপল, ফোনটিকে আরও স্মার্ট করে তুলতে অসংখ্য স্পেসিফিকেশনের উন্নয়ন করে থাকে। আইফোন সিক্স (iPhone 6) ও সিক্স প্লাস (6 Plus) বাজারে ছাড়ার মাধ্যমে অ্যাপল অন্যান্য স্মার্টফোনের সাথে পাল্লা দিতে নিয়ে এলো নতুন এক ডিজাইন। তারপরও, এটি কি বাজারের অন্যান্য ফোনের চাইতে ভালো?

২০০৭ সালে আইফোনের বিজ্ঞাপনের পর মোবাইল ফোনের ডিজাইনে ব্যপক পরিবর্তন হয়েছে। গ্যালাক্সি এস ফাইভ (Galaxy S5)-এর মতো স্যামসাং ফোনের রয়েছে অনেক বড় স্ক্রিন। বছরের পর বছর ধরে অ্যাপল তাদের ছোট স্ক্রিন নিয়ে অনড় অবস্থানে ছিল। যদিও, নতুন ডিজাইনে এর পরিবর্তন হয়েছে।

ডিজাইন

অ্যাপল আইফোন সিক্সে (iPhone 6) রয়েছে নতুন ৪.৭ ইঞ্চি ডিসপ্লে। এটি আগের মডেলের ৪ ইঞ্চি ডিসপ্লে থেকে বড় অগ্রগতি। নতুন এই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে প্রাথমিকভাবে একটু সমস্যা হবে, কিন্তু মিডিয়ার জন্য নতুন সাইজের এই স্ক্রিন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অপরদিকে, অ্যাপল আইফোন সিক্স প্লাস (iPhone 6 Plus)-এ ৫.৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে রয়েছে। এটি মূল আইফোনের আকারের বড় ধরণের পরিবর্তন, যা সিক্স প্লাসকে ক্রমবর্ধমান স্মার্টফোন বাজারের সাথে প্রতিযোগিতা করতে সাহায্য করবে।

আকারের পরিবর্তন ব্যতীত, উভয় ফোনই তাদের পূর্ববর্তী ফোনের চেয়ে পাতলা। আইফোন সিক্সের পুরুত্ব মাত্র ৬.৯ মিলিমিটার এবং আইফোন সিক্স প্লাসে তা ৭.১ মিলিমিটার। উভয় ফোনেরই গঠন একই রকম। উভয় ফোনেই অ্যালুমিনিয়াম বডি সহ একই ধরনের ফিজিক্যাল বাটন রয়েছে যার সাথে আইফোন ব্যবহারকারীরা পরিচিত।

ডিসপ্লে

ডিসপ্লের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে আইফোন সিক্স প্লাসে। অনেকেই মনে করেছিলেন আইফোন সিক্স প্লাস, আইফোন সিক্সেরই একটি জনপ্রিয় সংস্করণ হবে, কিন্তু গুণাগুণ বিচারে এটি একটি অসাধারণ ফোন। ১৯২০×১০৮০ স্ক্রিন রেজ্যুলেশনের এই ডিভাইসটি স্পষ্ট ও ঝকঝকে ছবি তুলতে সক্ষম।

আইফোন সিক্সের দু’টি মডেলেই অ্যাপেলের এইচ ডি রেটিনা ডিসপ্লে (HD Retina display) রয়েছে যা উচ্চ কনট্রাস্ট ও ব্রাইটনেসের ছবি তুলতে সক্ষম। ডুয়াল ডোমেইন পিক্সেলের কারণে বীক্ষণ কোণের উন্নতির পাশাপাশি আইফোনের দু’টি ফোনেই উন্নত পোলারাইজার রয়েছে, যা যে কোনো আলোতে সকল প্রকার মিডিয়া দেখতে সাহায্য করবে।

প্রসেসিং পাওয়ার

উভয় মডেলেরই রয়েছে অ্যাপেলের নতুন প্রসেসিং চিপ: ৬৪ বিটের A8। এর উন্নত প্রসেসিংয়ের কারণে লোডিং টাইম এবং ল্যাগ কম। স্যামসাংয়ের দামী মোবাইলগুলোর সাথে স্পীডের তুলনা করলে আইফোন সিক্সের মডেলগুলো অপেক্ষাকৃত ধীর গতির। গ্যালাক্সি এস ফাইভের রয়েছে ২.৫ গিগাহার্জ কোয়াড কোর প্রসেসর। A8-এর ১.৪ গিগাহার্জ স্পীডের সাথে তুলনা করলে নিশ্চিতভাবেই স্যামসাং জয়ী হবে। তারপরও, কোনো মতেই আইফোনের প্রসেসিং স্পীডকে ধীরগতির বলা চলে না।

ক্যামেরা

আইফোনের ক্যামেরা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্যামেরাগুলোর একটি। আইফোন সিক্সের উভয় মডেলেরই রয়েছে উন্নত ক্যামেরা। এর ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরায় রয়েছে উন্নত ফোকাস এবং ফেস ডিটেকশন (face detection)। এর ভিডিও ধারণ ক্ষমতার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। উভয় মডেলই এখন সেকেন্ডে ৬০ ফ্রেম হারে সম্পুর্ণ 1080 HD ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম। পাশাপাশি, আইফোন এখন সেকেন্ডে ২৪০ ফ্রেম হারে 720 p স্লো মোশন ভিডিও ধারণ করতে পারে। আইফোন সিক্স প্লাসে অতিরিক্ত ফিচার হিসেবে রয়েছে ইমেজ স্টেবিলাইজেশন (image stabilization)। এর বড় আকারের কারণে হাতে নিয়ে ছবি তোলা কষ্টকর। অ্যাপল এই মডেলে উন্নত ইমেজ স্টেবিলাইজেশন প্রযুক্তি যোগ করেছে যা ঝকঝকে ছবির নিশ্চয়তা দেয়।

যদিও আইফোন সিক্স এবং সিক্স প্লাসের ভালো ক্যামেরা রয়েছে, তবে তা স্যামসাংযের সমকক্ষ নয়। গ্যালাক্সি এস ফাইভে ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা রয়েছে, যা অনেক ঝকঝকে ছবি তুলেতে পারে। তথাপি,অ্যাপল এর অ্যাপার্চার, স্টেবিলাইজেশন এবং এক্সপোজারের উন্নতির কারণে সচরাচর ছবি তোলার জন্য এটি দারুণ একটি ক্যামেরা।

ব্যাটারি লাইফ

অ্যাপল নতুন আইফোন সিক্স এবং সিক্স প্লাসে ব্যাটারি লাইফের ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন করেছে। আইফোন সিক্স প্লাসের ব্যাটারি লাইফ অপেক্ষাকৃত বেশী। বড় স্ক্রিন সাইজের কারণে অ্যাপল একটি বড় ব্যাটারি ব্যাবহার করতে সক্ষম হয়েছে। এর স্ট্যান্ডবাই সময় ৩৮৪ ঘণ্টা, যা আইফোন সিক্সে ২৫০ ঘণ্টা। ব্যাটারিটি থ্রি জি তে ২৪ ঘণ্টা টকটাইম ও ৮০ ঘণ্টা অডিও প্লেব্যাক সহ, সারাদিন ব্যবহারের জন্য শক্তি যোগাবে।

এই ব্যাটারিগুলো অ্যাপল আইফোন ফাইভের সমস্যা জর্জরিত ব্যাটারির উন্নত সংস্করণ। আইফোন ফাইভের ব্যাটারি ছিল খুবই খারাপ। এমনকি, ব্যাটারির সমস্যা থাকার কারণে অ্যাপল তার শুরুর দিকের মডেলগুলোর জন্য ব্যাটারি রিপ্লেসমেন্ট দেয়। এখন পর্যন্ত আইফোন সিক্স এবং সিক্স প্লাসের ব্যাটারির অনেক উন্নতি হয়েছে। শুধু সময়ই বলে দেবে আর কোনো সমস্যা আসন্ন কিনা।

ফিচারসমূহ

আইফোন সিক্স এবং সিক্স প্লাসে নতুন IOS 8 রয়েছে। এই অপারেটিং সিস্টেমে আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অনেক নতুন ফিচার রয়েছে। এটি নির্বিঘ্নে আসন্ন অ্যাপল ওয়াচ (Apple Watch) সহ অন্যান্য অ্যাপল ডিভাইসের সাথে সহজে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। যারা IOS অপারেটিং সিস্টেমের সাথে পরিচিত তাদের কাছে এর নতুন ফিচারগুলো ভালো লাগবে এবং এর পরিচিত রূপ অনেক প্রসংশা কুড়াবে।

অ্যাপল একটি নতুন ফিচার সংযোজন করেছে যার নাম অ্যাপল পে (Apple Pay)। এই ফিচারটির মাধ্যমে এর ব্যবহারকারীরা ফোন ও ক্রেডিট কার্ডের বিল দিতে পারবেন। ক্রেডিট কার্ডগুলো ফোনে লোড করা হয় এবং এন এফ সি (NFC) রিডারের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়। অ্যাপেলের টাচ আইডির সাহায্যে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে এই পদ্ধতিটি বেশ দ্রুত ও সহজ। যেহেতু স্যামসাং এন এফ সি (NFC) পেমেন্ট এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর যুক্ত করেছে তাই অ্যাপলও এই ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে। অনেক রিটেইলার এবং ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এই পেমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। এখন শুধু দেখার বিষয় এই ক্ষেত্রে স্যামসাং নাকি অ্যাপল বেশী ভালো করতে পারে।

সার্বিকভাবে, আইফোন সিক্স এবং সিক্স প্লাস দারুণ দু’টি ফোন। এগুলো আইফোন ফাইভের ফিচারগুলোর অনেক উন্নয়ন করেছে এবং আইফোন ফাইভ ব্যবহারকারীদের জন্য চমৎকার কিছু ফিচার রয়েছে। যদিও স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ফাইভের স্পেসিফিকেশন এর চেয়ে ভালো কিন্তু সবকিছু নির্ভর করে ব্যবহারকারীর পছন্দের উপর। স্যামসাং এবং অ্যাপল উভয়েরই অসাধারণ কিছু স্মার্টফোন রয়েছে। যারা আইফোনের সাথে পরিচিত তাদের কাছে নতুন এই ফোন দুইটি এবং তাদের ফিচারগুলো ভালো লাগবে।

Comments

comments