বাসা পরিবর্তন – এমন একটি ঝামেলাপূর্ণ দিনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসের একটি চেকলিস্ট!

নতুন বাসায় ওঠা একটি দারুণ উত্তেজনার বিষয়। একবার আপনার নতুন বাসায় পৌঁছালে, আপনি ও আপনার পরিবারের স্মৃতির খাতায় সেগুলো যোগ হতে থাকবে, যা সারা জীবন শেয়ার করতে পারবেন। কিছু ক্ষেত্রে, নতুন বাসায় ওঠা মানে পরিবার বড় হওয়া, এবং এটা সবার জন্যই দারুণ একটি সময়। তবে, নতুন বাসায় স্থানান্তর প্রক্রিয়া সবসময় মসৃণ হয় না। বরং, আপনি যদি সবকিছু চিন্তাভাবনা না করে করেন, তবে সেটি বেশ কঠিন হতে পারে। সহজেই আপনার নতুন বাসায় ওঠার জন্য দশটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যার একটি চেকলিস্ট দেয়া হলো।

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সবকিছু শুরু করুন

আপনি যখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আপনি নতুন বাসায় উঠবেন, তখন থেকেই আপনার প্রস্তুত হতে হবে। হয়তো আপনি অনেক ব্যস্ত থাকেন। আপনাকে হয়তো ঠিকই কাজে যেতে হবে, বন্ধুবান্ধব ও পরিবার পরিজনকে সময় দিতে হবে, এবং প্রতিদিনকার অন্যান্য কাজ করতে হবে। তবে, যত তাড়াতাড়ি আপনি শুরু করতে পারবেন ততই ভালো। তাড়াতাড়ি গোছানো শুরু করতে পারলে, আপনি অনেক বিষয় খুঁজে পাবেন এবং তা আপনার তালিকায় সংযোজন করতে পারবেন, যা বাসা পরিবর্তনের দিন কাজে দেবে।

সময় নিয়ে পুরনো জিনিসপত্র পরিষ্কার করুন

পরিবর্তনের সময়টি অত্যন্ত কঠিন হতে পারে। তাই, আপানার ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই এমন জিনিস স্থানান্তরের চিন্তা করে লাভ নেই। এটি এড়িয়ে চলার জন্য, সময় নিয়ে সব পুরনো জিনিসপত্র পরিষ্কার করুন এবং সেগুলো দান করে দিন অথবা আপনার পরিচিত কাউকে দিয়ে দিন। এতে আপনি সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারবেন, এবং নতুন বাড়িতে ওঠার পর তা আপনার বাড়ির জায়গা বাঁচাবে।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি তালিকা তৈরি করুন

আপনার স্থানান্তরকে সহজ করার জন্য আপনার হাতে অনেক কিছুই রয়েছে। আসলে, সবচেয়ে সহজ উপাদান হচ্ছে একটি পেন্সিল ও কাগজ। আপনি বাসা পরিবর্তন করতে চাইলে, আপনার একটি তালিকা তৈরি করার কথা মাথায় রাখতে পারেন, যা আপনার এই প্রক্রিয়ার সময় কাজে লাগবে। একটি তালিকা তৈরি করলে, তাতে বিভিন্ন জিনিস অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। আপনি যেই জিনিসগুলো সরাতে চান, বা আপনার যে সকল পরিষেবার প্রয়োজন হতে পারে অথবা বাসা পরিবর্তন করার সময় হঠাৎ কোনো কিছুর প্রয়োজন পরলে সেসব বিষয় এই তালিকায় থাকবে। এক বাসা থেকে অন্য বাসায় যাওয়ার সময় আপনি অনেক ব্যস্ত থাকবেন, কাজেই একটি তালিকা করে নিলে আপনি সব কিছু যতটা সম্ভব গুছিয়ে করতে পারবেন।
সবকিছুতে লেবেল লাগান

আপনার বাসার মালপত্র প্যাক করার সময়, সবকিছুতে লেবেল লাগিয়ে বাক্সের মধ্যে রাখুন। এভাবে লেবেল লাগিয়ে রাখলে জিনিসপত্র খুঁজে পাওয়া সহজ হবে এবং নতুন বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টে উঠলে আপনার অনেক সময় বাঁচাবে। এছাড়াও, আপনি আপনার সাহায্যের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া করলে, কোন জিনিস কোথায় যাচ্ছে সেই হিসাবও রাখতে পারবেন।

সংরক্ষণের কথা মাথায় রাখুন

আপনার যদি অনেক জিনিসপত্র থাকে, অথবা এক বাসা থেকে আরেক বাসায় ওঠার মাঝে যদি সময়ের ব্যবধান থাকে, তবে আপনার সব মালামাল সংরক্ষণের জন্য একটি জায়গার কথা চিন্তা করতে পারেন। এতে করে, আপনি ব্যবহার না করলেও আপানার মালামালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি আপনার বাসার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র স্টোরেজে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন, বিশেষ করে আপনি যদি বাসা পাল্টানোর পরে কোন এক সময় সেগুলো ব্যবহার করতে চান।

পরিবেশবান্ধব বিকল্প (Green Alternatives) খুঁজে দেখুন

আপনি কেনো পরিবেশের ক্ষতি করবেন। এর পরিবর্তে, আপনি নানা ধরনের পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যাবহার করতে পারেন যা পরিবেশের উপর কোনো বিরুপ প্রভাব ফেলবে না। উদাহরণস্বরূপ, রিসাইকেল করা বাক্স অথবা নিউজপেপার ব্যবহারের চেষ্টা করুন, এতে অতিরিক্ত আবর্জনার পরিমাণ কমবে। এছাড়াও, আপনি নতুন বাসায় উঠলে সেই জিনিসগুলো ব্যবহারের জন্য অন্য কাউকে দিয়ে যেতে পারবেন।
আপনার সাহায্যের প্রয়োজনে লোক খুঁজুন

কিছু ক্ষেত্রে, একা একা বাসা পরিবর্তন অসম্ভব। হয় আপনার মালপত্র অনেক বেশী, অথবা আপনার এতো বড় গাড়ী নেই যাতে সব মালামাল বহন করতে পারবেন। উভয় ক্ষেত্রেই, বাসা বদলানোর জন্য এই কাজে সম্পৃক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া করতে পারেন, যারা আপনার কাজকে সহজ করে দেবেন। যেমন ধরুন, এরকম একটি প্রতিষ্ঠান খুব সহজেই রেফ্রিজারেটর বা ওয়াশিং মেশিনের মত ভারী মালামাল বহন করে দিতে পারবে, তাতে আপনার নিজের আহত হওয়ার ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকতে পারবেন। আরেকটি পরামর্শ হচ্ছে, আপনি বাসাবাড়ি স্থানান্তরের সাথে জড়িত কোনো প্রতিষ্ঠানকে কয়েকদিন আগেই ফোন করে ঠিক করে রাখবেন। তা না হলে, আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে এবং বাসা বদলানোর দিন আপনি কঠিন সমস্যায় পরবেন।

সবকিছু ঠিকঠাক মত চলছে কিনা খেয়াল করে দেখুন

আপনি যদি আগেই একটি তালিকা করে থাকেন তবে, একবার চোখ বুলিয়ে দেখুন আপনার প্রয়োজনীয় সবকিছু ঠিক আছে কিনা। এখন আপনার তালিকাটি কাজে লাগবে এবং এতে আপনার অনেক সময় বাঁচবে। ফলে, আপনার প্রয়োজনীয় সব জিনিস ঠিকঠাক মতো আনা হলো কিনা সে নিয়ে আপনার মাথা ব্যাথার প্রয়োজন পরবে না।

প্রতিবেশীদের সাথে দেখা করুন

সব কিছু শেষ হলে, আপনাকে আপানার প্রতিবেশীর সাথে দেখা করতে হবে। এতে বোঝা যাবে যে আপনি বন্ধুভাবাপন্ন এবং ভালো মানুষ, এবং এলাকা সম্পর্কে জানতে চাইলে আপনি তাঁদের কাছ থেকে সাহায্য নিতে পারবেন।

আপনি যদি এই তালিকা অনুযায়ী কাজ করে থাকেন, তবে আপনি সহজেই আপনার নতুন বাসা বা অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে পারবেন। এর অর্থ, আপনি সহজেই আপানার নতুন জায়গায় পৌছাবেন, এবং আপনার পরিবার পরিজনদের সাথে সুখময় সময় কাটাতে পারবেন।

Comments

comments