পশুপাখি লালনপালন- যা জানা থাকা ভালো

পাখি খুবই সুন্দর একটি প্রাণী যা যেকোনো গৃহে প্রাণচাঞ্চল্য ও আনন্দ বয়ে আনতে পারে। শিশুরা এদের খুব ভালোবাসে এবং কিছু পাখি আছে বেশ মজার, যেমন-তোতা। বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি কিনতে পাওয়া যায়, যেমন- লরিকিট, প্যারাকিট, ম্যাকাও, কাকাতুয়া, গ্রে প্যারট এবং অ্যামাজন প্যারট। পাখি কেনার পূর্বে আপনাকে বুঝতে হবে, এই অসম্ভব সুন্দর প্রাণীদের পুষতে হলে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। যেহেতু এটাই আপনার প্রথম পাখি পোষা, সেহেতু আপনাকে সঠিক পাখি বেছে নিতে ও পরবর্তীতে তাকে প্রশিক্ষণের জন্য অনেক ধৈর্যশীল হতে হবে। নিচের বিষয়গুলো জানা থাকলে তা আপনার অনেক কাজে আসবে-

· খরচ- আপনার ভুলে গেলে চলবে না যে পাখি পোষারও খরচ আছে। এটা শুধু পাখি কেনার খরচই না, বরং পাখির জন্য খাঁচা, খাবার, সরঞ্জাম, এবং খেলনা কেনারও খরচ রয়েছে। পাখি কিনতে গিয়ে আপনার খরচের সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করলে চলবে না। পাখি আকারে বড় হলে তার জন্য বড় খাঁচার দরকার হবে এবং বেশী যত্নের প্রয়োজন। ছোট পাখি সহজেই রাখা যায়। টাকার জন্য কখনও গুণগত মান বিসর্জন দেবেন না। সস্তায় পেয়ে কখনই অসুস্থ ও খারাপ জাতের পাখি কিনবেন না। সবসময় স্বাস্থ্য ভালো দেখে পাখি কিনবেন, কারণ এটা কার্পণ্য করার জায়গা না।

· পোষা পাখি কোথায় পাবেন- সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইন মাধ্যম অনেক বিকশিত হয়েছে এবং কোন রকম ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই আপনি আপনার পছন্দের জাতের পাখি খুঁজে পাবেন। আপনি যে ধরনের পাখি কিনবেন সেরকম পাখি বিক্রি করার জন্য পাখির অনলাইন বাজারে অনেক সত্যিকারের বিক্রেতা রয়েছেন যারা তাদের পাখির ছবি দিয়ে দিচ্ছেন এবং এর প্রকৃতি ও আচরণ সম্পর্কেও লিখছেন। এটা পাখির মেজাজ বুঝতে আপনাকে সহায়তা করবে। বাংলাদেশে আপনি সত্যিকারের পাখির বিক্রেতা খুঁজে পেতে বিক্রয় ডট কম (bikroy.com)-এ যেতে পারেন।

· হাতে পোষা পাখি (Hand Raised Bird)- ওয়েবসাইটে আপনি অনেক পাখির হাট পাবেন যেখানে লেখা আছে “হাতে পোষা পাখি” বা “হ্যান্ড রেইজড বার্ড”। এর মানে কী? তোঁতা পাখির ক্ষেত্রে এই শব্দটি বেশী ব্যাবহার হয়, কিন্তু অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও ব্যাবহার হতে পারে। এর মানে পাখিটি মানুষের পোষা এবং জন্মের পর থেকে হাতে খাবার খাওয়ানো হয়েছে। এতে পাখিগুলো অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ আর আদুরে হবে এবং সহজেই পোষ মানবে। আপনি পাখির প্রশিক্ষণে সময় খরচ করতে না চাইলে এই ধরণের পাখি আপনার জন্য ভালো। তারপরও, হাতে পোষা পাখির ক্ষেত্রে একটি ব্যাপার মনে রাখবেন, বাড়িতে নেয়ার আগে দেখে নেবেন যে তা উইনিং(weaning) করা কিনা বা বাইরের খাবার খায় কিনা। তা না হলে আপনার পাখিটি খেয়ালিপনা করবে।

· উইনিং করা পাখি (Weaned Bird)- কিছু মানুষ ও ব্রিডারের মতে, পাখি ও এর মালিকের মধ্যে বন্ধন দৃঢ় হয় যখন পাখিটি উইনিং করা না থাকে। আবার, অনেক বিক্রেতা হাতে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে অনীহার কারণে উইনিং না করা পাখি (un-weaned) বিক্রি করতে চান। আপনি যখন অনলাইনে পাখির তালিকা দেখবেন, তখন আপনার উচিৎ হবে উইনিং করা পাখি (weaned) পছন্দ করা। পাখির খাবার তৈরি করা ও ঠিকভাবে হাতে খাওয়াতে অনেক কারিগরি জ্ঞান ও সময়ের প্রয়োজন। আপনার যদি এ দুটো না থাকে তবে এটা আপনার নিজের করা উচিৎ নয়। অনলাইনে পাখি কেনার সময় ‘উইন্ড’(‘weaned’) এবং ‘হ্যান্ডফেড’ (‘hand fed’) শব্দ দুটো দেখে পাখি কিনবেন।

· বয়স্ক পাখি পোষা- আপনি পোষা পাখি খুঁজতে গেলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় দেখতে পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে সবসময় বাচ্চা পাখি খুঁজে না পাওয়া। মাঝেমধ্যে, আপনি বয়স্ক পাখি খুঁজে পাবেন। মূল যে বিষয়টি জানা প্রয়োজন তা হলো, এই বয়স্ক প্রাণীগুলো পোষ মানানো অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে, এগুলো যদি প্রশিক্ষিত না হয়ে থাকে তবে এদের সামাজিক ও আদুরে হিসেবে তৈরি করা যাবে না। যদি পাখির সাথে এক ধরণের বন্ধন গড়ে তুলতে চান, তবে আপনাকে অনেক ধৈর্য ধারণ করতে হবে, বিশেষ করে সেটি যদি তার আগের মালিকের সাথে ভালোভাবে জুটি বেধে থাকে। একটি পাখি তার নতুন মালিককে বিশ্বাস করতে অনেক সময় লাগে এবং এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।

· পাখির খাঁচা- পাখির খাঁচার আকার পাখির চাইতে অনেক বড় হওয়া প্রয়োজন, কেননা পাখিটিকে খাঁচার মধ্যে চলাচল করতে হবে। এটাই পাখির একমাত্র ব্যায়াম। তাই যখন আপনি খাঁচা কিনবেন তখন সবচেয়ে বড় খাঁচাটি কিনবেন। খাঁচার কাঠিগুলোর মধ্যে ফাঁকা জায়গা সঠিক মাপের হতে হবে। কাঠির ফাঁকা জায়গা ভুল মাপের হলে তা পাখির জন্য শুধু অস্বস্তিকরই হবে না, বরং তাতে পাখিটি মারাত্মকভাবে আহত হতে পারে। আড়াআড়ি সজ্জার খাঁচা তোঁতা পাখির জন্য বেশ প্রচলিত, কারণ এরা খাঁচার পাশ বেয়ে উপরে উঠতে পছন্দ করে। ছোট পাখিদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি খাঁচার প্রয়োজন নেই কিন্তু এগুলোর খাঁচা উঁচু হওয়া প্রয়োজন। সহজে পরিস্কার করার জন্য খাঁচার নিচে টেনে বের করা যায় এমন ট্রে থাকলে ভালো।

· পাখি কেনার পরামর্শ- যদি সম্ভব হয়, পাখি কেনার পূর্বে তা একজন পশু চিকিৎসককে দেখিয়ে নিন। যদি পারেন, পাখিটির বিক্রেতার সাথে কথা বলুন এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করুন। পাখিটির যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তবে তা ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখবেন। পাখির লিঙ্গ, ব্যান্ড নাম্বার এবং ডিম ফুটে বের হওয়ার তারিখ (hatch date) জেনে নেবেন। বিক্রয় ও ফেরতের শর্তগুলোও জেনে নেবেন। আমদানিকৃত পাখির ক্ষেত্রে, কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা দেখে নিন।

উপরের পরামর্শগুলো মেনে চললে আপনি সম্ভাব্য সেরা পাখিটিই কিনতে পারবেন।

Comments

comments