ছবি তোলার সেরা মুঠোফোন

সময়টা ইন্টারনেটের। হাতের মুঠোফোনটা এখন আর ‘থাকলে ভালো’ এমন কিছু নয়। বরং বহমান জীবনের  অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে মুঠোফোনটার সাথে একটা ক্যামেরা থাকলে তো আসলেই ভালো, তাই নয় কি! পথ চলছেন, আকাশ জুড়ে স্নিগ্ধ মেঘ। তুলে নিলেন একটা স্ন্যাপ। শেয়ার করে দিলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বন্ধুদের সাথে। শুধু কি এটাই? ব্যবসা বানিজ্যের জন্য ছবি পাঠানো এখন আরো বেশি জরুরী হয়ে পড়েছে। একটা জিনিস কেনা বেচা করা অথবা জরুরি কোন ফাইল শেয়ার করতে হবে, হাতের কাছে স্ক্যানার নেই। কি আর করা, ছবি তুলের শেয়ার করে দিতে হবে সাথে সাথেই। এসব কিছুর কারনে মুঠোফোনের ক্যামেরা সুবিধা আর ডিজিটাল ক্যামেরার এখন বাড়তি কদর। মুঠোফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সেভাবে তাল মিলিয়ে চলছে। পাল্লা দিয়ে বানাচ্ছে সেরা এবং পছন্দনীয় ক্যামেরা সম্বলিত মুঠোফোন। এক সময়ে মুঠোফোনে তিন মেগা পিক্সেলের ক্যামেরা  মানেই ছিল অতি আধুনিক, এখন তো পুরো ডিএসএলআর এর সুবিধাসহ মুঠোফোন চাচ্ছেন ক্রেতারা।

সেই পছন্দের সাথে তাল মিলিয়ে দিনকে দিন এখন মোবাইলের ক্যামেরাগুলো হয়ে উঠছে আরো আধুনিক, নান্দনিক এবং সর্বশেষ প্রযুক্তিসহ। পেশাদার ফটোগ্রাফার অথবা সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যমে নিয়মিত নিজের উপস্থিতি জানান দেন এমন যে কারো এখন দরকার হয়ে পড়েছে ক্যামেরার সর্বশেষ কলাকৌশল। ছবি একটা তুলবেন আর তার কোয়ালিটি অসাধারণ হবে না- এমন কি হয়! সুতরাং সবার চাই মুঠোফোনেই সেরা ক্যামেরা সুবিধা। মুঠোফোন তো আছেই, একই সাথে সেরা ক্যামেরা মানে তো সোনায় সোহাগা। পছন্দের তালিকায় তাই যোগ হচ্ছে সেই ব্র্যান্ডের মুঠোফোন, যেটার সাথে রয়েছে সেরা ক্যামেরা।

ফটোগ্রাফি তে একটু আধটু উঁকি দেয়ার ইচ্ছে, অথবা নিজের ছবিটা সুন্দর হোক সেটা চাচ্ছেন? তাহলে জেনে নিতে পারেন কোন সেলফোন গুলোতে পাবেন সেরা ক্যামেরা সুবিধা। অ্যাপল, ব্ল্যাকবেরি, এইচটিসি, নকিয়া, স্যামসাং বা সনি- এই ব্র্যান্ড গুলোর মুঠোফোনে পাবেন সেরা ক্যামেরা। তবে এই তালিকায় কারটা সেরা, সেটা বলাটা খুব মুশকিল। তবে জেনে নিতে পারেন কোনটা কেমন!

স্যামসাং ঃ

স্যামসাং এর গ্যালাক্সি এস ফোর এর যুম মুঠোফোনের ক্যামেরার জগতে রীতিমত সাড়া ফেলে দিয়েছে। স্যামসাং এর অন্য স্মার্ট ফোন মডেলের মতই ফোনটি দেখতে। উল্টে পাল্টে দেখুন। পেছনের দিকে পাবেন  সেই ক্যামেরা আইকন। এই ক্যামেরা অপশনটি দেখলে মনে হবে আধুনিক কোন ডিজিটাল ক্যামেরা। একদম একহারা গড়নের। ফোনটা কিন্তু মোটেই ভারি নয়। প্রথমে বুঝতে একটু কষ্ট হবে যে কোনটা ফোনের সামনের দিক আর কোনটা পিছনের।

এই দেখার দিকটা শুধু নয়। মুঠোফোনের এই ক্যামেরা দিয়ে রীতিমত পেশাদার কাজ করতে পারবেন। বিশেষ করে যারা মনে করেন ক্যামেরাটা দিয়ে শুরু করা যেতে পারে শখের ফটোগ্রাফি, তাদের আশার চেয়েও ভালো ছবি তুলতে পারবেন এটা দিয়ে। ছবি তোলার জন্য অবজেক্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। এয় ক্যামেরা দিয়ে দিয়ে যেটার ছবি তুলছেন তার খুঁটিনাটি সবকিছু তুলতে পারবেন। ছবিটা তোলার পর যুম করলে একেবারে ক্ষুদ্র বিষয়গুলো বেশ বড় করেই দেখতে পারবেন। অনেক সময় ঝাঁকুনির কারনে ছবি ঝাপসা হয়ে যায়। কিন্তু এই মুঠোফোনটিতে এর এরগোনোমিক লাম্পের কারনে ফটোগ্রাফারকে ছবি তোলার সময় এই ঝাঁকুনির বিষয়টা মাথায় না রাখলেও চলবে!

এইচটিসিঃ

ফটোগ্রাফির জন্য এইচটিসির সেরা মডেল হল এইচটিসি ওয়ান( এম এইট)। ফোনটা দেখতে এইচটিসির অন্যান্য মডেলগুলোর মতই। তবে এর ক্যামেরাটা অন্য মডেল গুলোর থেকে একদম আলাদা। বিশেষ করে এর  ‘ইউ ফোকাস’ মুঠোফোন ক্যামেরার জগতে একেবারেই নতুন এক ধারা নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন সময় ছবি তোলার জন্য ক্যামেরার মোড অপশনটি পাল্টাতে হয়। এই মুঠোফোনের ক্যামেরায় রয়েছে সেই অপশনটি। আরো রয়েছে নানান ধরনের ফটো টুলস, যা অন্যদের থেকে একেবারেই আলাদা। ফটোশপের জন্য রয়েছে আলাদা অপশন। প্যানরমা মোডে যেমন ছবি নিতে পারবেন, আবার কেটে কুটে সাইজও করে ফেলতে পারবেন এই ফোন থেকেই।

প্যানোরামিক ছবি তোলার জন্য অবজেক্টগুলো সমান্তরাল রেখায় ধারণ করার বিষয়টি চলে আসে। অন্য মুঠোফোন গুলোর তুলনায় এই মডেলটি অন্তত এই ক্ষেত্রে অনন্য। ছবি তোলার সাথে সাথেই সাদা কালোয় রুপান্তর করার সুবিধাটা তো থাকছে বাড়তি হিসেবে। বারো ধরনের ফিল্টার রয়েছে এই ক্যামেরা অপশনটিতে। আলট্রা পিক্সেলের মাধ্যমে ৩০০ শতাংশ বেশি আলোর মধ্যেও ছবি তোলা সম্ভব এই ফোনটি দিয়ে। রয়েছে ডুয়াল ফোকাস। একবার ছবি তোলা হয়ে গেলে আবার ঐ অবজেক্ট আবারো ফোকাস করতে পারবে। রয়েছে আরো বাড়তি নানান সুবিধা। ছবি তোলার জন্য তো এটাই বেশ চমৎকার একটি পছন্দের মুঠোফোন এটা।

নকিয়াঃ

নকিয়ার লুমিয়া ১০২০ সেটটি জুম এবং ফোকাস এর সাথে স্যামসাং এর এসফোর এর সাথে কিছু মিল রয়েছে। এটা হচ্ছে মুঠোফোন এবং ডিজিটাল ক্যামেরার এক চমৎকার সমন্বয়। ক্যামেরার জুম লেন্সটি দেখতে বেশ ছোট। কিন্তু এটি অনেক শক্তিশালী এবং ডিএসএলআর এর কোয়ালিটি সম্পন্ন ছবি তুলতে সক্ষম। নকিয়া এই মুঠোফোনের ক্যামেরা সম্পর্কে এটা গর্ব করেই বলে যে এই পেশাদার ফটোগ্রাফির জন্য সব সুবিধা এতে রয়েছে।

তবে এই মুঠোফোনের ক্যামেরার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর ক্যামেরাপ্রো অপশন। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ব্যালান্স, ফোকাস এবং শাটার স্পীড ঠিক করা যায়। যারা ছবি তোলেন তারা জানেন এই তিনটির সঠিক সমন্বয় কত জরুরী। ৪১ মেগা পিক্সেল, এডভান্স পারভিউ প্রযুক্তি, জেননের ফ্ল্যাশ আর যেসিস এর হাই পারফরমেন্স শুটিং – এই সব মিলে ছবি তোলার জন্য নকিয়া লুমিয়া ১০২০ এক কথায় অসাধারণ। নিখুঁত ছবি তোলার জন্য এমন ক্যামেরাই তো চাই।

সনিঃ

সনি স্মার্টফোন প্রযুক্তির সাথে সমন্বয়  করে প্রযুক্তির মহারথি সনি ২০১৩ সালে নিয়ে আসে নতুন কিউ এক্স সিরিজ। এর ত্যাগ লাইন ছিল- লেন্স স্টাইল ক্যামেরা। সনি সাইবার শট এক্সটেন এবং এক্সহান্ড্রেড দুটোই অ্যাপল বা অ্যান্ড্রয়েড সুবিধা সম্বলিত যেকোন স্মার্ট ফোনের সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা যায়। এর হাই পাউয়ারফুল লেন্স মুঠোফোনটিকে রীতিমত ডিএসএলআর এ পরিণত করেছে। ওয়াইফাই সুবিধা থাকায় সনি এক্সপেরিয়া জেডএস ওয়ান মুঠোফোনের জগতে বলা চলে বিপ্লব সৃষ্টি করতে পেরেছে। পানি ঢুকবে না, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং ৬৪ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরি- আর কি চাই বলুন! মুঠোফোনের স্ক্রিনটাই ভিউ ফাইন্ডার এর কাজ করবে। প্রয়োজনীয় সম্পাদনার কাজটি এটা দিয়েই করে ফেলতে পারবেন।

ব্ল্যাকবেরিঃ

ব্ল্যাকবেরি স্মার্ট ফোন মুঠোফোনটিকে রীতিমত ফটোগ্রাফি স্টুডিওতে পরিনত করেছে। এর কারন ব্ল্যাকবেরি ওয়েব স্টোর এর সাথে সরাসরি সংযুক্তি। ছবি তোলা, এডিট করা এবং শেয়ার করা- সব কিছু এক সাথে করার জন্য ব্ল্যাকবেরি কে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেখেন অনেকেই। ব্ল্যাকবেরি জেড৩০ স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ব্ল্যাকবেরি১০ অপেরেটিং সিস্টেম। সাথে পাঁচ ইঞ্চি ডিসপ্লে স্ক্রিন, ছবি তোলার জন্য বেশ চমৎকার।

অ্যাপলঃ

ফটোগ্রাফির জন্য সেরা মোবাইল ফোনের এই পর্যলোচনায় শেষ ফোনটি হচ্ছে সুপ্রসিদ্ধ অ্যাপল আই ফোন ফাইভ এস। এই ফোনের সাথে সংযুক্ত নতুনক্যামেরাটির নাম হচ্ছে অ্যাপল আই-সাইট।

এটার নতুন ডিজাইনে করা ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা আরো বড় পিক্সেল গ্রহন করতে পারে। বড় পিক্সেল আরোবেশি লাইট কেপচার করতে পারে যার ফলে আরো ভালো ছবি তোলা যায়।এই ফোনে ফটোগ্রাফির আরো কিছু বৈশিষ্ট্য হলো এই ফোনের প্যানারোমা মোডএবং ইমেজ-ব্লেন্ডিং  স্ট্যাবিলাইজেশন।

অ্যাপেল ফোনে এই ক্যামেরাটি সংযুক্ত করা হয়েছে মূলত ফটোগ্রাফারের দক্ষতা নয় বরং ক্যামেরা নিজেই অনেকভালো ছবি তুলতে পারে এ জন্য। অ্যাপল আই-ফোন ব্যবহারকারীরা এর আই-টিউনস অ্যাপ ষ্টোরের ফটোগ্রাফি অ্যাপস ব্যাবহার করে কল্পনাতীত ভালো ছবিতুলতে পারবে।

সত্যিকার অর্থে মোবাইল ফটোগ্রাফি ওর্য়াল্ড এখনও এর উন্মেষকালেই রয়েছে। কিন্তু সেলফোন প্রস্তুতকারীরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, এর লাইটের গতি,সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় স্মার্টফোন তৈরি এবং সেটাতে ডিজিটার ক্যামেরা সংযোগের ক্ষেত্রে।

কমপেক্ট ডিজিটাল পয়েন্ট ক্যামেরা এবং শ্যুট ক্যামেরা এখন কার্যকারীতার দিক থেকে অনেকটাই প্রফেশনাল ডিজিটাল সিঙ্গেল ল্যান্স রিফ্লেক্স ক্যামেরারসাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এটার সাম্প্রতিক লাইট-ওয়েট ডিজাইন স্মার্টফোনে আরো সহজে সুন্দর ছবি তোলার ব্যাপারে সহায়তা করে এবং এর ফলে স্মার্টফোনএখন আরো জনপ্রিয় হয়েছেমোবাইলের ফটোগ্রাফিক অ্যাপস’এর বিস্তারের কারনে, স্মার্টফোনের ক্যাপাবিলিটি এখন সীমাহীন।

প্রযুক্তির এই অগ্রসরতাএবং বৈচিত্রপূর্ণ সৃষ্টিশীলতার চাহিদার কারনে অনেক স্মার্টফোন বাজারে আসছে, যেখান থেকে ক্রেতারা বেছে নিতে পারেন।

বেশিরভাগ সেলফোন ফটোগ্রাফারই খুব সহজেই অনেক সুন্দর সুন্দর ছবি তুলতে পারে।তাই সেলফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে ভালো ফটোগ্রাফিরসুবিধা সম্বলিত ক্যামেরা বাজারেসরবরাহ করছে, এবং এর ফলে ক্রেতারা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফোনের মধ্যে বাছাই করতে সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট হচ্ছে।

অনলাইন রিভিউ বোর্ডস এবং টেকনোলজি, ব্লগ অনেক তথ্য দিয়ে থাকে যা ক্রেতারা ফোন কেনরআগে দেখে নিতে পারে।

ফটোগ্রাফির জন্য সেরাস্মার্টফোনগুলোর দাম পছন্দের তারতম্যের কারনে ভিন্ন হয়ে থাকে।স্মার্টফোনের সাথে সংযুক্ত ক্যামেরা থাকায় ফটোগ্রাফাররা অনেক লাভবান হয়েছে এবিষয়ে কোন সন্দেহ নাই।

Comments

comments