4x4s ক্রেতার গাইড

কোথায় খুঁজতে হবে আর কী খুঁজতে হবে তা জানা থাকলে ভালো মানের, নির্ভরযোগ্য এবং যথেষ্ট কম মূল্যে বিক্রয়যোগ্য ব্যবহৃত গাড়ি খুঁজে পাওয়াটা আপনার পক্ষে মোটেই কঠিন নয়। এবড়ো থেবড়ো পথে-প্রান্তরে চালানোর জন্য সর্বসেরা আর সবচেয়ে জনপ্রিয় 4x4s এর রয়েছে সেই রকমের গঠনশৈলী আর আরামদায়ক ব্যবস্থা। এতে প্রত্যন্ত এলকায় কিংবা দীর্ঘ এবড়ো থেবড়ো রাস্তায় ভ্রমণের উপযুক্ত সামর্থ আর ব্যবস্থা রাখা আছে।

ব্যবহৃত গাড়ি খুঁজে পাওয়ার ওয়েবসাইট
সমগ্র দেশ জুড়েই বিক্রয়যোগ্য ব্যবহৃত গাড়ি খুঁজে পাওয়ার একটি চমৎকার জায়গা হলো Bikroy cars। বাংলাদেশের বৃহত্তম মার্কেট প্লেস, Bikroy এর যানবাহন শ্রেণিতে (vehicle section) এক হাজারের মতো ব্যবহৃত 4x4s, ট্রাক এবং গাড়ির বৈশিষ্ট্যের বিবরণসহ বিক্রয়ের জন্য রাখা আছে। এখানে বিভিন্ন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তৈরি বহু মডেলের সুলভ থেকে নিয়ে ব্যয়বহুল বিভিন্ন দামের ব্যবহৃত গাড়ি রয়েছে।
সর্বসেরা ও সবচেয়ে জনপ্রিয় 4x4s

বাংলাদেশে সাজানো মিৎসুবিশি পাজেরো (Mitsubishi Pajero) বেশ জনপ্রিয় একটি 4×4 গাড়ি। ২০১৪ মিৎসুবিশি পাজেরোর (2014 Mitsubishi Pajero) রয়েছে শক্তপোক্ত বাহ্যিক কাঠামো আর ভেতরটাও বেশ প্রশস্ত। টাটা কোম্পানী সাফারির (Safari) মত অনেক গাড়ি তৈরি করে যেটি 4x4s এর মধ্যে অন্যতম সেরা। টাটা সাফারিগুলো (Tata Safari) হলো এমন একটি গাড়ি, যা অবিশ্বাস্যরকমভাবে মাঠে ময়দানে দাবড়িয়ে বেড়ানোর জন্য সুপরিচিত। টাটা সাফারি বিভিন্ন মডেলে পাওয়া যায়, টাটা সাফারি স্টর্ম (Tata Safari STORME) এবং টাটা সাফারি ডিকর (Tata Safari DICOR)। টাটা সুমো গোল্ড (Tata Sumo Gold) বাজারে নতুন এসেছে এবং এটি টাটার 4×4 গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী। এর রয়েছে অদম্য শক্তি আর চেহারা এবং এর ব্লুটথ (Bluetooth) ইউএসবি সংযোগ (USB connectivity) এবং দ্বৈত এসি (Dual AC) সহ আরামের বিবেচনায় এটি অভিজাত বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। জীপ গাড়ির আদলের মাহিন্দ্র থর (Mahindra Thar) হলো আরেকটি চমৎকার গাড়ি। 4×4। নিচে এই 4×4 গুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হলো। নতুন গাড়ি তো আসলে একসময় ব্যবহৃত গাড়িই হবেই, তাই নয় কি? প্রথম ক্রেতা কেনার পর আবার তার কাছ থেকে কিনে নেয়ার মাধ্যমে অর্থ সাশ্রয় করাটা সত্যিই ভালো বিষয়বুদ্ধির পরিচয়। এই 4×4 গুলোর পুরাতন সংস্করণ সবসময়ই সহজলভ্য।

২০১৪ মিৎসুবিশি পাজেরো (2014 Mitsubishi Pajero)

· সর্বোচ্চ কাঠামোগত সুরক্ষামন্ডিত।

· সেরা মানের সরঞ্জামাদি।

মিৎসুবিশি পাজেরোর রয়েছে ১৬ ভাল্ব ও ৪ সিলিন্ডার বিশিষ্ট ৩২০০ সি.সি ইঞ্জিন। এটি ৭৫ লিটার ডিজেল ইঞ্জিন দ্বারা ডানপার্শ্ব নিয়ন্ত্রণে চালিত। এর ৩ টি দরজা রয়েছে এবং এর যাত্রী ধারণ ক্ষমতা হলো ৭ জন।

টাটা সাফারি ডিকর (Tata Safari DICOR)

এই শ্রেণির গাড়িগুলোর মধ্যে টাটা সাফারি ডিকর হলো সেরাদের অন্যতম।

চলন্ত অবস্থায় ৪ চাকায় গতি (4 wheel drive) যুক্ত করা যায় যাকে বলা হয় চলন্ত অবস্থায় চার চাকায় গতি প্রদান (Shift-on-the-fly 4×4 engagement)

· ৩১ ডিগ্রি সম্মুখ বাঁক (high approach angle) এবং ৩১ ডিগ্রি পশ্চাৎ বাঁক (departure angle) সহ মাটি থেকে উচ্চতা ২০৫ মি.মি. এবং ২৬ ডিগ্রি পর্যন্ত কৌণিক অবস্থানে ঢাল বেয়ে চলতে পারে।

· সর্বোচ্চ ৩০০ মি.মি. পর্যন্ত পানিতে চলায় (water wading level) ভেতরে পানি প্রবেশ করে না এবং এর টায়ার পিছলে যাওয়া (tyre slippage) রোধ করতে এর বিচ্যুতির হার (slip differential) কমানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ডিকর ইঞ্জিন ২.২, পরিবর্তনশীল ঘুর্ণন প্রযুক্তি (ভিটিটি) (Variable Turbine Technology (VTT) সমৃদ্ধ ১৪০ পিএস ক্ষমতার এবং ৩২০ এমএন টর্ক (Torque) যুক্ত বিশ্বমানের একটি ডিজেল চালিত ইঞ্জিন।

· সরাসরি জ্বালানী প্রক্ষেপ (Direct Injection) কমন রেইল (Common Rail) ১৬ টি ভাল্ববিশিষ্ট এ্যালুমিনিয়াম সিলিন্ডার হেড (cylinder head)।

· বিএস আইভি সহনশীল, পরিবর্তনশীল ঘুর্ণন প্রযুক্তির (Variable Turbine Technology) ব্যবহারের কারনে ইঞ্জিনের অল্প গতিতেও টার্বোচার্জার (turbocharger) উচ্চচাপে বায়ু শোষণ করতে পারে ফলে ইঞ্জিনকে আরও বেশি জ্বালানীদক্ষ (fuel-efficient) করে তোলার মাধ্যমে এর ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং জ্বালানীর পূর্ণ দহন (cleaner burning ঘটায়।

· জ্বালানী প্রক্ষেপণ ব্যবস্থাটি ১৬০০ বার (bar) উচ্চচাপ বিশিষ্ট প্রক্ষেপণ শক্তি সহ সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত।

· শব্দের নিম্ন কম্পন ও কম তীক্ষ্ণতা।

টাটা সাফারি ডিকরের কর্মদক্ষতা অবিশ্বাস্য রকমের।

· ৬.৮ সেকেন্ডে গতিবেগ ০-৬০ কিলোমিটার/ঘন্টায় উঠতে পারে এবং ১৫.৮ সেকেন্ড তা ০-১০০ কিলোমিটার/ঘন্টায় উঠতে পারে।

· ৩৮ মিটার দূরত্বের মধ্যেই ৮০-০ কিলোমিটার/ঘন্টা হিসেবে ব্রেক চেপে থামতে পারে।

· প্রতি কিলোমিটার ১১.৫৭ লিটার খরচ হিসেবে অত্যন্ত জ্বালানীদক্ষ।
· ৭৮% গ্র্যাডিয়াবিলিটি।

· সম্পূর্ণ মুখোমুখি কোনো সংঘর্ষের ক্ষেত্রে সামনের যাত্রী এবং চালকের নিরাপত্তার ব্যাপারে ৭৪/২৯৭/ইইসি দ্বারা পরীক্ষিত।

টাটা সাফারি স্টর্ম (Tata Safari STORME)

টাটা সাফারি স্টর্ম (Tata Safari Storme) এর রয়েছে নতুন প্রজন্মের ২.২এল ভ্যারিকো (2.2L VARICOR) ইঞ্জিন। আরাম এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থাসহ চমৎকার কর্মদক্ষ এই ডিজেল চালিত ইঞ্জিনটির রয়েছে ১৪০পিএস এবং ৩২০এনএম টর্ক (Torque)।

· ১৬ টি ভাল্ব, সরাসরি জ্বালানী প্রক্ষেপ, কমন রেইল এ্যালুমিনিয়াম সিলিন্ডার হেড।

· ডিকরের মতই পরিবর্তনশীল ঘুর্ণন প্রযুক্তি (Variable Turbine Technology) (ভিটিটি)।

· চলন্ত অবস্থায় চার চাকায় গতি প্রদান (Shift-on-the-fly 4×4)

· মাটি থেকে উচ্চতা ২০০ মি.মি।

· স্বল্প পরিসরে মোড় নেয়ার সুবিধা (Tight turning radius) ।

· বিলাসবহুল অভ্যন্তরভাগ এবং পা রাখার পর্যাপ্ত জায়গা (spacious leg room)

· এন্টি লক ব্রেক (Anti-Lock brakes)

· যাত্রীর নিরপত্তার জন্য ৪ টি দরজাতেই সাইড ইমপ্যাক্ট বীম (Side impact beams)

· মুখোমুখি সংঘর্ষের প্রভাব শোষণ করতে ক্রাম্পল জোন (Crumple zone)

টাটা সুমো গোল্ড (Tata SUMO GOLD)

টাটা সুমো গোল্ড শক্তিশালী নতুন 4×4। এর নিপুণ শক্তি এবং কর্মদক্ষতা আপনাকে অভিভূত করবে। নতুন ৩এল সিআর৪ (3L CR4) ইঞ্জিন সিংহের মত গর্জন করে। এটি আরাম এবং শৈলীর দিক থেকে আপনার পূর্বের সকল অভিজ্ঞতাকে ছাড়িয়ে যাবে।

· উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ক্লাচ (clutch) ।

· ডাবল উইশবোন সাসপেনসন (Double Wishbone Suspension) ম্যাকফারসন স্ট্রাটস (McPherson Struts) থেকে অনেক বেশি উন্নতমানের এবং এটা টায়ারের ক্ষয় (tyre wear) কমায় অথচ আবার দারুণ কৌশলী গাড়ি চালনায় (superior driving dynamics) সহায়তা করে।

· উচ্চগতিতে চলার সময় ভারসাম্য রক্ষার জন্য এন্টি রোল বার (Anti-Roll Bar) রয়েছে।

· দ্বৈত এসি

· ইউএসবি সংযোগ এবং ব্লু-টুথ

· চলার গতিকে বাগে রাখতে ভারসাম্যপূর্ণ চওড়া আকৃতি এবং বাঁক ঘোরার সময় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সম্মুখভাগ ও পশ্চাৎভাগের চওড়া দৃশ্যায়ন (wide front and rear track) ।

· এ জাতীয় গাড়িগুলোর মধ্যে ওয়ারেন্টির দিক থেকেও এটি সেরা, ৩ বছর/১০০,০০০ কিমি. এর মধ্যে যেটি প্রথমে হবে।

· সর্বনিম্ন সিডিউল সার্ভিস খরচ।

· খুচরা যন্ত্রাংশের সর্বনিম্ন দাম।

· দুর্ঘটনাজনিত কারণে নষ্ট যন্ত্রাংশের সর্বনিম্ন দাম এবং গাড়ির সচল অবস্থা বহাল থাকাকালীন হ্রাসকৃত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ।

টাটা সুমো গোল্ড এ দুইটি ইঞ্জিনের বিকল্প রাখা আছে, এ জাতীয় গাড়িগুলোর মধ্যে উভয়টিই একসিলারেসন এবং টর্ক এর দিক থেকে সেরা:

নতুন গোল্ড সিআর৪-বিএস৮ ইঞ্জিন (New Gold CR4-BS8 engine)

· ২৯৫৬সিসি, ৮৫পিএস@৩০০০আরপিএম, কমন-রেইল টার্বো চার্জড এবং আভ্যন্তরীণ শীতলীকরণ ব্যবস্থা বিএস- IV যুক্ত।

· ৯.৩ সেকেন্ডে ০-৬০ কি.মি/ঘন্টা।

· ২৭.৬ সেকেন্ডে ০-১০০ কি.মি/ঘন্টা।

· গ্যাসে চলার ক্ষেত্রে ১৫.৩ কি.মি/লিটার।

গোল্ড-বিএস৩ ইঞ্জিন (Gold-BS3 engine)

· ৭০পিএস@৩০০০আরপিএম সহ ২৯৫৬সিসি।

· ২২৩ এনএম@১৬০০ থেকে ২০০ আরপিএম।

· ১১.৭ সেকেন্ডে ০-৬০ কি.মি/ঘন্টা।
· ৩৪.৫ সেকেন্ডে ০-১০০ কি.মি/ঘন্টা।

· গ্যাসে চলার ক্ষেত্রে ১৪.৩ কি.মি/লিটার।

মাহিন্দ্র থর (Mahindra Thar)

নরম ছাদযুক্ত মাহিন্দ্র থর (Mahindra Thar) গাড়িটির বিএস IV সিআরডিই ডিজেলচালিত ইঞ্জিন রয়েছে। এই শ্রেণির সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ইঞ্জিন, যা ৭৭ কিলোওয়াট ক্ষমতা (১০৫ বিএইচপি) এবং ২৪৭ এনএম টর্ক নিগর্ত করে। মজবুত ষ্টিলের কাঠামোযুক্ত দীর্ঘস্থায়িত্বের নিশ্চয়তাসহ এই গাড়িটির আবশ্যিকভাবেই মাহিন্দ্র জীপ গাড়ির চেহারা রয়েছে।

· স্ট্যান্ডার্ড ৪ডব্লিউডি

· অপসারণযোগ্য ছাদ

· সমন্বিত সুবিধাযুক্ত শক্তিশালী স্টিয়ারিং এবং মাত্র ৫.২৫ মি. ব্যাসার্ধে মোড় ঘোরার সুবিধা

· মুক্ত ফ্রন্ট সাসপেনসন

· উন্নততরটিতে রকেট কী (correct key) ছাড়া ইঞ্জিন ইগনিশন (engine ignition) রোধ করতে মোবিলাইজার রয়েছে।

মাহিন্দ্র থরের দুই ধরনের ইঞ্জিনবিশিষ্ট গাড়ি রয়েছে, সিআরডিই (CRDe) এবং ডিআই (DI).

সিআরডিই ইঞ্জিন (CRDe engine)

· সিআরডিই ইঞ্জিন বায়ুদূষণ ছাড়াই উচ্চদক্ষতাসহ জ্বালানী সাশ্রয়ীভাবে কাজ করে।

· ড্রাইভ-বাই-ওয়্যার প্রযুক্তি থ্রটল (throttle) এর ক্ষেত্রে দ্রুত এবং নিয়ন্ত্রিত সাড়া দেয় যখন এলএসপিভি ব্রেক চাকা লক (lock) হয়ে যাওয়া এবং নিয়ন্ত্রণ হারানো প্রতিরোধ করে।

ডিআই ইঞ্জিন (DI engine)

· অবিশ্বাস্যরকমের কর্মক্ষম

· কাঠামোর এমএম৫৫০ শক্তি ও ডিআই ইঞ্জিনসহ একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য গাড়ি

· সর্বনিম্ন রক্ষণাবেক্ষণ খরচ

· সুলভ

· ১০০ কিলোমিটার/ঘন্টার উচ্চ গতিবেগ

· জ্বালানীদক্ষ

অন্যান্য চমৎকার গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে পাথফাইন্ডার (Pathfinder), প্যাট্রল (Patrol) এবং (Titan Crew Cab) এর মত নিশানের (Nissan) তৈরি 4×4 গুলো।

Comments

comments