মাইক্রোসফট সারফেস স্টুডিও : ডেক্সটপ কম্পিউটার জগতের নতুন বিস্ময়

গতানুগতিক পার্সোনাল কম্পিউটারের ব্যবহার হয়েছে বহুদিন। এরপর অ্যাপেল তাদের উদ্ভাবিত আইম্যাক মুক্তি দিয়ে পার্সোনাল কম্পিউটারের বাজারে আনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। অ্যাপেল তাদের আই-ম্যাক পিসিটি তৈরি করে সৃজনশীল দক্ষ প্রোফেশনালদের কথা চিন্তা করে। চলে আসি ২০১৬ সালে। কম্পিউটার জগতে এক কালের দুনিয়া কাঁপানো একটি কোম্পানি তাদের সৃষ্টিশীল ধারাবাহিকতাকে অব্যাহত রেখে আবারও বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয় তাদের অভিনব উদ্ভাবনী শৈলী দিয়ে। হ্যা, মাইক্রোসফটের নতুন পার্সোনাল কম্পিউটার – সারফেস স্টুডিওর জনপ্রিয়তা অ্যাপেলকেও হার মানিয়ে ছাড়িয়ে গেছে অনেক উপরে। বলা চলে, মাইক্রোসফটের সারফেস স্টুডিওর কাছে অ্যাপেলের অস্তিত্ব এখন চ্যালেঞ্জের মুখে।

সারফেস স্টুডিও অত্যন্ত অসাধারণ একটি কম্পিউটার। আমি নিজে এগিয়ে যেয়ে প্রচার করতে চাই যে – এটিই ইতিহাসে এখন পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে চমৎকার কম্পিউটার হার্ডওয়্যার। কম্পিউটারটির দামও বেশ চড়া। ২,৯৯৯ ডলার থেকে এর দরদাম শুরু এবং এটি তাদের জন্যই তৈরি যারা কম্পিউটার ব্যবহার করে সর্বোচ্চ সেবা এবং সুযোগ-সুবিধা পেতে চান। এই অল-ইন-ওয়ান কম্পিউটারটিতে আছে সবচেয়ে সরু এলসিডি টাচ স্ক্রীন। স্ক্রীনটি ২৮ ইঞ্চি চওড়া, ৩:২ এসপেক্ট রেশিও সমেত ৪৫০০X৩০০০ পিক্সেল রেজোলুশন সমৃদ্ধ। মাইক্রোসফটের ভাষ্যমতে ডিসপ্লেতে আছে ‘জিরো গ্র্যাভিটি হিঞ্জ’। এই অসাধারণ ম্যাকানিজমটি ব্যবহার করে আপনি আঙুলের একটি টিপের সাহায্যেই স্টুডিওটি ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী সুবিধামত স্থাপন করতে পারবেন যখন তখন। লেখা বা ছবি আঁকার ক্ষেত্রেও এটি আপনার সুবিধার্থে অ্যাঙ্গেল অনুসারে নিখুঁত ভাবে নড়বে।

hinge-0

সারফেস স্টুডিওর স্পেসিফিকেশন একেবারেই যে সর্বোন্নত তা নয় তবে প্রায় যে কোন ধরণের কাজ করার জন্য যথেষ্ট এটি যথেষ্ট ক্ষমতা রাখে। মাইক্রোসফট স্টুডিওতে সিক্সথ জেনারেশন (Skylake) কোর আইফাইভ অথবা কোর আইসেভেন প্রসেসর ব্যবহার করেছে। আপনি যদি একটি কোর আইফাইভ প্রসেসর চান তবে আপনি ২ গিগাবাইট GDDR5 VRAM সহ পাচ্ছেন একটি Nvidia GeForce GTX 965M GPU। আর আপনি যদি কোর আইসেভেন কনফিগারেশন চান তবে আপনি আগের GPU অথবা ৪ গিগাবাইট GDDR5 VRAM সহ Nvidia GeForce GTX 980 দু’টোর মধ্যে যেকোন একটি পছন্দ করে নিতে পারবেন। RAM-এর জন্য যে অপশনগুলো থাকছে সেগুলো হল – ৮ গিগাবাইট, ১৬ গিগাবাইট এবং ৩২ গিগাবাইট। স্টোরেজের জন্য আপনি পাচ্ছেন একটি ১ টেরাবাইট অথবা ২ টেরাবাইট র‍্যাপিড হাইব্রিড ড্রাইভ (SSD এবং SATA স্টোরেজের একটি মিশ্রণ)।

6

সারফেস স্টুডিও কম্পিউটারের সাথে মাইক্রোসফট দিচ্ছে একটি সারফেস পেন, সারফেস কী-বোর্ড এবং একটি সারফেস মাউজ। দুর্ভাগ্যক্রমে আপনি যদি সারফেস ডায়াল কিনতে চান তবে আপনাকে গুনতে হবে আরও ১০০ ডলার। সারফেস ডায়াল একটি অভিনব নতুন ধরণের প্রয়োজনীয় উপকরণ যা আপনার স্ক্রীনের কন্টেন্টের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে কাজের ক্ষেত্রে দেবে বিভিন্ন রকমের সুবিধা। এটি দিয়ে সারফেস বুক এবং সারফেস প্রো ৪-এর কাজও করা যাবে।

4

মাইক্রোসফটের ওয়েবসাইটে আপনি এই নতুন কম্পিউটারটি অর্ডার করতে পারেন কিন্তু এই ডিভাইসগুলোর শিপিং পাওয়া যাবে ২০১৭ সালের শুরুর দিক থেকে, এর আগে নয়। এন্ট্রি মানের মডেলের মূল্য দাঁড়াবে ২,৯৯৯ ডলার (core i5, Nvidia GeForce GTX 965M GPU, 1TB storage, 8GB RAM) এবং সবচেয়ে দামি মডেলটির মূল্য দাঁড়াবে ৪,১৯৯ ডলার (core i7, Nvidia GeForce GTX 980M GPU, 2TB storage, 32GB RAM)। সারফেস স্টুডিও পার্সোনাল কম্পিউটারের ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে একেবারেই নতুন এবং প্রগতিশীল। মাইক্রোসফট এটাই প্রমাণ করল যে, পার্সোনাল কম্পিউটারের বাজারে নতুনত্ব আনার যথেষ্ট সুযোগ এখনও রয়েছে। এটি বিশেষ গুরুত্বের সাথে লক্ষ্যনীয় যে, অ্যাপেলের সর্বশেষ পণ্যগুলো কতটা নতুনত্বহীন এবং আকর্ষণহীন এবং একই সাথে একটি প্রফেশনাল গ্রেড কম্পিউটার উদ্ভাবন করার ক্ষেত্রে তাদের অপারগতা। সারফেস স্টুডিও একাধারে একটি শৈল্পিক উদ্ভাবন এবং কাজের ক্ষেত্রেও সমান পারদর্শী। এটি কম্পিউটার জগতের এমন একটি প্রকৃত উদ্ভাস যা ব্যবহারকারীর স্বাচ্ছন্দ্য এবং প্রয়োজন বুঝে ব্যবহারকারীকে সহযোগিতা করে। গোটা কম্পিউটারের বাজার এই বিস্ময়কর কম্পিউটারটির উপর কি রকম সাড়া ফেলবে তাই এখন দেখার বিষয়।

1

Comments

comments