নকিয়ার প্রত্যাবর্তন!📱

cover

নকিয়া স্মার্টফোনের প্রতিযোগিতার গণ্ডির সীমানার বাইরে বহুদিন ধরেই। কোম্পানিটি এক সময় ছিল মোবাইল ফোন প্রযুক্তির বাজারের শীর্ষস্থানীয় একটি ব্র্যান্ড। কিন্তু অ্যাডভান্সড আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমকে আয়ত্ত করতে না পারায় তারা বাজারে টিকতে পারেনি। মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস ২০১৭ অনুষ্ঠানে ফিনিশ কোম্পানিটি তাদের নতুন ডিভাইসগুলো প্রদর্শন করেছে এবং আশা করছে মোবাইল প্রযুক্তির বাজারে নতুন ডিভাইসগুলো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। অবাক করার মত ব্যাপার হচ্ছে, পুরো অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘ফিচার ফোন’ ক্যান্ডি বার উন্মোচন। এমন একটি যুগে যেখানে স্মার্টফোন একচেটিয়া রাজত্ব করে চলেছে সেখানে নকিয়া তাদের বিশ্ব সমাদৃত নকিয়া ৩৩১০ – যে ফোনটি অবিশ্বাস্য ব্যাটারি লাইফ এবং মজবুত নির্মাণের জন্য বিখ্যাত সেই মোবাইল ফোনটি নতুন আঙ্গিকে বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নকিয়া ৩৩১০ এর পাশাপাশি, নকিয়া আরও তিনটি স্মার্টফোন নকিয়া ৩, নকিয়া ৫ এবং নকিয়া ৬ বাজারে রিলিজ করলো।

3310

নতুন নকিয়া ৩৩১০ আকারে চিকন, এর একটি ২.৪” কিউভিজিএ স্ক্রীন, একটি ২ এমপি ক্যামেরা, মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট (যা কিনা ৩২ গিগাবাইট পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য) সহ একটি ১৬ গিগাবাইট বিল্টইন স্টোরেজ আছে। ফোনটি ২জি পর্যন্ত সাপোর্ট করে। বাজারে ছাড়ার সময় ফোনটির বাজারমূল্য হবে ৪৯ ইউরো এবং ফোনটি ৪টি রঙে বাজারে আসবে – লাল, হলুদ, নীল এবং ধূসর। ২০১৭ সালের যুগের প্রেক্ষিতে এই ফোনটির ভূমিকা কেমন হবে তা নিয়ে হয়ত আপনার মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে। এই ফোনে এক কালের হিট মোবাইল গেম “স্নেকের” নতুন ডিজাইন করা ভার্সন আছে এবং এটি ফ্রিলসবিহীন একদমই বেসিক ধাঁচের একটি ফোন। এই ফোনটি ইতমধ্যেই অনেকের নজর কেড়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে নকিয়া ফ্যানরা পুরনো দিনগুলোকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে এই ফোনটি সংগ্রহে রাখার জন্য দল বেঁধে ক্রয় করবে।

Nokia 6

স্মার্টফোন ফ্রন্টে, বিশ্বের বাজারে আসা তিনটি স্মার্টফোনের মধ্যে নকিয়া ৬ সবচেয়ে উন্নত মডেল। নকিয়ার ভাষ্যমতে পুরো ফোনটি একটি অ্যালুমিনিয়ামের টুকরো থেকে তৈরি, এবং এর সহ্যক্ষমতা পরিমাপ করার জন্য এর উপর ব্যাপক পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এর স্পেসিফিকেশন অনেককে অবাক করতে পারে কেননা এতে আছে স্ন্যাপড্রাগন ৪৩০ যাকে লোয়ার এন্ড মিডরেঞ্জ চিপসেট হিসেবে গণ্য করা হয়। নকিয়া ৬-এ আছে ৩ জিবি র‍্যাম, ১২৮ জিবি মাইক্রো এসডি এক্সপেন্সনের সুবিধা সহ ৩২ জিবি বিল্ট ইন স্টোরেজ, গরিলা গ্লাস সহ একটি ৫.৫” ১০৮০পি আইপিএস ডিসপ্লে, ডুয়াল ডলবি এটমস স্পীকার, ১৬ এমপি এফ/২.০ প্রধান ক্যামেরা, ৮ এমপি এফ/২.০ সেকেন্ডারি ক্যামেরা, ৩০০০ এমএএইচ ব্যাটারী এবং অ্যান্ড্রয়েড ৭.১.১ নৌগাট। নকিয়া ৬-এর বাজার মূল্য ২২৯ ইউরো।

Nokia 5

নকিয়া ৫-এর ফিচারে এর পরবর্তী মডেলের তুলনায় কিছুটা পরিবর্তন আছে। এর স্ক্রীনটি তুলনায় ছোট এবং এর রেজোলুশন ৫.২” ৭২০পি কিন্তু এর ২.৫ডি গরিলা গ্লাস রয়েছে। প্রধান ক্যামেরাটি ১৩ এমপি সেন্সর কিন্তু সেলফি ক্যামেরাটি অপরিবর্তিত। নকিয়া ৫-এও স্ন্যাপড্রাগন ৪৩০ ব্যাবহার করা হয়েছে তবে এর র‍্যাম ২ জিবি, ইন্টারনাল স্টোরেজ ১৬ জিবি (মাইক্রো এসডি যা কিনা ১২৮ জিবি পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য) এবং একই রকম ৩০০০ এমএএইচ ব্যাটারী রয়েছে। এর বাজার মূল্য  ১৮৯ ইউরো।

Nokia 3

নকিয়া ৩ হচ্ছে তিনটি স্মার্টফোনের মধ্যে সবচেয়ে কম পাওয়ারের এবং সবচেয়ে স্বল্প মূল্যের স্মার্টফোন যা পাওয়া যাচ্ছে ১৩৯ ইউরোতে। ফোনটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল – যদিও এটি উপরে উল্লিখিত স্মার্টফোনগুলোর চেয়ে কম মূল্যের এটির আছে টেকসই ফুল মেটাল বডি এবং নির্ভুল কাট। নকিয়া ৩-ই একমাত্র ভ্যারিয়েন্ট যার ভেতরে কুয়ালকমের এসওসি নেই। এটি ২ জিবি র‍্যাম সমন্বিত মিডিয়াটেক ৬৭৩৭ চিপ ব্যবহার করে এবং এতে আছে ১৬ জিবি বিল্ট ইন স্টোরেজ, ২৬০০ এমএএইচ ব্যাটারী এবং ৫” ৭২০ পি আইপিএস ডিসপ্লে। ফ্রন্ট ক্যামেরা এবং প্রধান ক্যামেরা দুটোই একই ধরণের কেননা দুটোই ৮ এমপি এফ/২.০ সেন্সর।

3 phones

যদিও এই ফোনগুলো নকিয়ার হাই এন্ড ফোন নয় যা অনেক ক্রেতারাই হয়ত আশা করে থাকবেন; তবে এটি স্পষ্ট যে কোম্পানিটি তাদের বিশ্বস্ত ভোক্তাদের কথা চিন্তা করে করে তাদেরকে মোবাইল ফোন ব্যবহারের পুরনো স্বাদ দেবার উদ্দেশ্যে সাশ্রয়ী মূল্যের ফোন বাজারে নিয়ে আসছে। নকিয়া ৩৩১০ এবং নকিয়া ৬ হয়ত বাংলাদেশ মার্কেটে চলে আসছে সুতরাং চোখ-কান খোলা রাখুন। আমরা আশা করছি যে মোবাইল ফোনের জগতে নকিয়ার প্রত্যাবর্তন সফল হবে। একাধারে মজবুত এবং ভাল মানের স্মার্টফোন কেমন হয় তার উদাহরণ তারা নতুন করে উপস্থাপন করতে সক্ষম হবেন।

Comments

comments